The Sangbad · সাধারণ
ভার্চ্যুয়াল জীবনের মোহে ঘর ছাড়ে কুমিল্লার ৪ স্কুলছাত্রী
১৪/১০/২০২৬

ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে কাল্পনিক ও ভার্চ্যুয়াল জীবনের মোহে পড়ে ঘর ছেড়েছিল কুমিল্লার চার স্কুলছাত্রী। তবে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের সশরীলে ও নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত সোমবার সকালে নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রী (দুইজনের বয়স ১২ ও একজনের ১৩ বছর) এবং তাদের এক ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী (৮ বছর) স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। তবে তারা স্কুলে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক ৪টি নিখোঁজ জিডি করে। বিষয়টি জানার পরই জেলা ডিবি ও থানা পুলিশ মাঠে নামে। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সোমবার গভীর রাতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় ওই চার ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে মঙ্গলবার তাদের কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই ছাত্রীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করত এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক ভিডিও আপলোড করত। ভার্চ্যুয়াল জীবনের কাল্পনিক প্রভাবে পড়ে তারা স্বাধীনভাবে বাঁচা, নিজেরা উপার্জন করা এবং পরিচিতদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্নে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে ঘর ছাড়ে। টিকটক ও ফেসবুকের সুবাদে তাদের সঙ্গে আবু জাইফা, মারজান, হৃদয়, জিসান, সুজন, মিনহাজ, মোস্তফিজ ও জুয়েল নামের আট ছেলের পরিচয় ছিল, তবে তাদের সঠিক ঠিকানা ছাত্রীরা জানত না। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়ানের বরাতে পুলিশ আরও জানায়, নিখোঁজের দিন সকালে কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার এক মোবাইল হাটে এক ছাত্রীর পরিবারের ব্যবহৃত একটি হ্যান্ডসেট ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা এবং সঙ্গে আনা অলংকার নিয়ে তারা প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকায় যায়। ঢাকায় পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধে করতে না পেরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক বান্ধবীর দাদার বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ঠিকানা জানা না থাকায় সেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে কান্দিরপাড়ের ওই দোকান থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি এবং উদ্ধারকৃত শিশুদের কাছ থেকে তাদের সঙ্গে আনা অলংকার জব্দ করে। সম্প্রতি কুমিল্লায় শিশু তাসফিয়া ও তাজমিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া বা তদারকি না করা তাদের বিপদগামী করছে। সময়মতো খবর পাওয়ায় আমরা ৪ শিশুকে উদ্ধার করতে পেরেছি।’সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত চার ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗