Published on
:
2 min read
মা ফিরেছেন কৈলাসে, এ বার আসবেন তাঁর বড় মেয়ে। সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। প্রায় প্রতি বাঙালি বাড়িতেই আরাধনা করা হয় ধনদেবীর। ঘর সাজানো, চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা আঁকার মধ্যে দিয়ে চলে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি। প্রচলিত বিশ্বাস, লক্ষ্মীপুজোর রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের বাড়িতে আসেন। সুখ, সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্যের আশীর্বাদ দেন। তাই এই বিশেষ দিনে বাড়ির প্রবেশপথ থেকে ঠাকুরঘর পর্যন্ত অনেকেই আঁকেন দেবীর পায়ের ছাপ। কোথাও সাদা খড়ি বা চালের গুঁড়ো, কোথাও আবার লাল আলতা দিয়ে আঁকা হয় লক্ষ্মীর চরণ। তবে প্রচলিত রীতি অনুসারে, বাড়ির সব জায়গায় দেবীর পায়ের ছাপ আঁকা উচিত নয়। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে লক্ষ্মীর চরণ আঁকলে তা শুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তুমতে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে দেবীর পায়ের ছাপ না আঁকা উচিত নয়। জানেন কোন জায়গা?
কোন কোন জায়গায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকবেন না?
সদর দরজার সামনে
বাড়ির প্রবেশপথকে শুভ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, দরজার ঠিক সামনে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ না আঁকার কথাই বলা হয়। কারণ, সেখানে জুতো খুলতে গিয়ে বা বাড়িতে ঢোকা-বেরোনোর সময় ছাপের উপর পা পড়তে পারে। এর পরিবর্তে ফুল-পাতার নকশায় আলপনা আঁকতে পারেন।
বাথরুমের সামনে
প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুসংক্রান্ত রীতি অনুযায়ী, বাথরুমের সামনে দেবীর পায়ের ছাপ আঁকা উচিত নয়। তাই এই স্থানটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিঁড়িতে
সিঁড়ি দিয়ে নিয়মিত ওঠানামা করতে হয় বলে সেখানে লক্ষ্মীর চরণ আঁকা এড়িয়ে চলাই ভালো। তাতে দেবীর পায়ের ছাপের উপর বার বার পা পড়ার সম্ভাবনা কমবে।
কোথায় আঁকবেন মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ?
ঠাকুরঘরের সামনে
লক্ষ্মীপুজোর জায়গায় আলপনার পাশাপাশি দেবীর পায়ের ছাপ আঁকতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নিয়মে দেবীকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়। পুজোর স্থানটি আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
টাকা-পয়সা ও গয়না রাখার জায়গায়
বাড়িতে যেখানে টাকা, গয়না বা মূল্যবান সামগ্রী রাখা হয়, সেই স্থান পরিষ্কার করে সেখানে লক্ষ্মীর চরণ আঁকার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে সংসারে আর্থিক সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্য কামনা করা হয়।
শস্য রাখার স্থানে
চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য রাখার জায়গায়ও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার প্রচলন রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীকে ধনসম্পদের পাশাপাশি শস্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও পুজো করা হয়।
বাড়ির নিরিবিলি স্থানে
বাড়ির এমন কোনও পরিষ্কার জায়গায় দেবীর চরণ আঁকতে পারেন, যেখানে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত কম। এতে পায়ের ছাপের উপর অন্য কারও পা পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
