শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির মিষ্টি সুবাসে চারদিকে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। সেই বার্তায় যোগ হয়েছে ঢাকের কাঁসির বাদ্য আর মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া। দেবীর মুখাবয়ব ফুটিয়ে তুলতে ও প্রতিমার সাজসজ্জায় শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রতিমা কারিগরেরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের। পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার মণ্ডপগুলোতে জোরকদমে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও অলঙ্করণের কাজ।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা তৈরীর ব্যস্ত চিত্র দেখা যায়। বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রাথমিক কাঠামো তৈরির পর কয়েক ধাপে দেওয়া হয়েছে মাটির প্রলেপ। মাটি শুকানোর পর এখন চলছে রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব ফুটিয়ে তোলার কাজ।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়নগড় গ্রামের নাপিতপাড়া মণ্ডপে কাজ করা মৃৎশিল্পী বিশ্বনাথ পাল জানান, পূজা ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার আকারভেদে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও উপকরণের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় মজুরি না বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ না হওয়ার হতাশা ব্যক্ত করেন আরেক কারিগর উত্তম কুমার পাল।
তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উৎসবের আমেজে ভাটা পড়েনি। খানসামা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কেশব চন্দ্র কর জানান, খানসামা একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা। এ বছর উপজেলায় সর্বমোট ১৪৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ১০টি বেশি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন যাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা মহাষষ্ঠীর ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির।
