The Sangbad · রাজনীতি
নির্বাচনে কেন নারী প্রার্থী নেই, ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের মারদিয়া মমতাজ
১৩/১০/২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি কোনো আসনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক এবং দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার সিদ্ধান্তে এটি নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৭০ শতাংশ নারী সদস্যই জানিয়েছিলেন যে, তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে প্রস্তুত নন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সম্মেলনে মারদিয়া মমতাজ এসব কথা বলেন। ‘উইমেন, পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্যাল অর্ডারস ইন মুসলিম সোসাইটি কনটেক্সটস’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।সম্মেলনের একটি অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন করেন, জামায়াতে ইসলামী সরাসরি কোনো আসনে কেন নারী প্রার্থী দেয়নি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটি নারী প্রার্থী দেবে কি না।জবাবে মারদিয়া মমতাজ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের পুরুষ সদস্যরা দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় পরিবারের সব দায়িত্ব নারীদের ওপর এসে পড়েছিল। পরিবারের আয়-উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীরা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তখন রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরোধী নয়। আমরা জুলাই সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। আশা করছি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারব।’আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও হয়তো সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হবে না, তবে ভবিষ্যতে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।অধিবেশনে আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন তোলেন, জুলাই সনদে নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে জামায়াত স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নে দলটির সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় কি না। এর জবাবে মারদিয়া মমতাজ বলেন, জুলাই সনদ এখনো বাধ্যতামূলক কোনো দলিল নয়, এটি সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে।তিনি দাবি করেন, কোনো দলই এখনো এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এমনকি বিএনপিতেও অনেক অভিজ্ঞ নারী নেত্রী মনোনয়ন পাননি। এর পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।একই অধিবেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী উমামা ফাতেমা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের পরিকল্পিতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী অধিকার নিয়ে কথা বললে তাদের রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলে। বিএনপি, জামায়াত এবং তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল সবার মধ্যেই এই প্রবণতা বিদ্যমান বলে তিনি মন্তব্য করেন।বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ইউল্যাবের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক অবন্তি হারুন, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মোনা তাজালি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম। সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হোমা হুডফার।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗