Published on
:
2 min read
এই সময়, খড়্গপুর: অনাথ আদিবাসী কন্যাকে পুজো করা হলো দেবীরূপে। ন’বছরের বাপ–মা হারা অনাথ ঝর্না নায়েককে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতির মণ্ডপে কুমারীরূপে পুজো করা হলো। কুমারী রূপে কোনও বালিকাকে পুজো নতুন না হলেও এই পুজোর ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে। যাকে দেবী হিসেবে মণ্ডপে অধিষ্ঠিত করে পুজো করা হলো, তাকেই আবার কন্যারূপে গ্রহণ করলেন পুজোর মুখ্য উদ্যোক্তা তন্ময় দাস। কন্যারূপে গ্রহণ করে তার পড়াশোনা থেকে বড় করে তোলার সব দায়দায়িত্ব নিজেদের কাঁঝে তুলে নিলেন তন্ময় দাস ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া বসু দাস। যাতে আর পাঁচজনের মতো বাবা–মায়ের সঙ্গে থেকে মানুষ হতে পারে সে। প্রসঙ্গত, তন্ময় ও পাপিয়ার একটি ছেলে রয়েছে।
এ বার এই পুজো দ্বিতীয় বর্ষে পা রেখেছে। প্রধান উদ্যোক্তা বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময়। শুরু থেকেই কুমারী পুজোর আয়োজন এই পুজোয়। তবে কোন কুমারীকে এ বার দেবীরূপে পুজো করা হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকে। সেই সময়েই তন্ময় জানতে পারেন, ডেবরার মঠ বিষ্ণুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়ে বাপ–মা হারা ঝর্না নায়েকের বিষয়ে। কয়েক বছর আগে বাবা মারা গিয়েছিলেন দুর্ঘটনায়। সেই শোক সামলাতে না পেরে মায়েরও মৃত্যু হয় পরে। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে ঝর্নার ঠাঁই হয় মাসির বাড়িতে। কিন্তু মাসি–মেসোও গরিব। ফলে কষ্টেই দিন কাটত ঝর্নার। তন্ময় বলেন, ‘এখনও ঝর্নাকে স্কুলে পর্যন্ত ভর্তি করা হয়নি!’ এমন একজন আদিবাসী মেয়েকেই দেবী হিসেবে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন তন্ময় ও পাপিয়া। তাঁদের কথায়, ‘নারীর মধ্যেই তো লুকিয়ে রয়েছে দেবীশক্তি। তাই তো আমরা দেবী দুর্গার সঙ্গে কুমারীর পুজো করি। পুজোর মাহাত্ম্য শুধু আলো, মণ্ডপসজ্জায় আবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রতিটি নারীর যথার্থ সম্মান আমরা যতক্ষণ না দিতে পারছি, ততক্ষণ পুজোর প্রকৃত সার্থকতা নেই বলেই আমার বিশ্বাস। তাই আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক অনাথ মেয়েকে দেবীরূপে পুজো করার পাশাপাশি কন্যারূপেও তাকে গ্রহণ করেছি। ওর সব দায়িত্ব এখন থেকে আমার।’
ইতিমধ্যেই দু'টি স্কুলের সঙ্গে কথাও বলেছেন তন্ময়। যেখানে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করবে ঝর্না। তবে তার আগে স্কুল এবং হস্টেলের পরিবেশ দেখে নিতে চান তন্ময়-পাপিয়া। তারপরই সিদ্ধান্ত নেবেন। তন্ময়ের কথায়, ‘এভাবে বিভিন্ন পুজো কমিটি যদি একজন করে কন্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে বহু অনাথ, গরিব কন্যা একদিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নজির সৃষ্টি করতে পারবে।’
