যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের ৭০তম আসরে সেরা চলচ্চিত্রের শীর্ষ পুরস্কার জয় করেছে ইউক্রেনীয় নির্মাতা সের্গেই লোজনিতসার সিনেমা ‘ইম্পেরিয়াম’। রবিবার উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ আসরের বিজয়ী চলচ্চিত্রগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রদর্শিত শক্তিশালী চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের নজর কেড়ে নেয় লোজনিতসার এই চলচ্চিত্র।
‘ইম্পেরিয়াম’ সিনেমাটির মূল আকর্ষণ হলো এর ব্যতিক্রমী ও বাস্তবধর্মী নির্মাণশৈলী। ইতালির রাজধানী রোমের একটি সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত থাকা ১৯৭০ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে ইতালীয় নির্মাতাদের ধারণ করা কিছু অত্যন্ত দুর্লভ ও ঐতিহাসিক ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সেখানকার প্রান্তিক মানুষের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বড় পর্দায় তুলে ধরার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করতেই এই প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সের্গেই লোজনিতসা।
চলচ্চিত্রটির আখ্যান মস্কো শহর থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এমন সব অঞ্চলে, যেখানে বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতি ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এসব সংগৃহীত ফুটেজ ও দৃশ্যবিন্যাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর একটি কেন্দ্রীয় সাম্রাজ্যের কঠোর রাজনৈতিক আধিপত্যের দিকটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্মাতা মূলত রাশিয়ার ঐতিহাসিক এবং বর্তমান আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার এক গভীর ও বাস্তবসম্মত সমালোচনা উপস্থাপন করেছেন।
লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের এই ৭০তম আসরে মূল ক্যাটাগরির পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য নির্ধারিত গ্রিয়ারসন অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আসমাহান বকেরাটের ‘কনক্রিট ল্যান্ড’। পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্বীকৃতিস্বরূপ সাদারল্যান্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে থাইল্যান্ডের সিনেমা ‘নাইন টেম্পলস টু হেভেন’। এছাড়া সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্মাননা জিতে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা রাহুল রায়ের সিনেমা ‘আমান’।
