আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইলিনয়ের এক হিন্দু মন্দিরে বন্দুকবাজের প্রাণঘাতী হামলার ছক বানচাল হওয়ার ঠিক কয়েক দিন পরেই সম্প্রীতি ও একাত্মতার অনন্য নজির গড়ে তুললেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কুইন্সের প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠলেন তিনি। নবরাত্রি, দুর্গাপূজা, দশাইন থেকে শুরু করে বিজয়াদশমী—উৎসবের প্রতিটি আবহে শামিল হয়ে তিনি প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
উৎসবের রঙিন মুহূর্তে কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি নিউ ইয়র্ক মেয়র। ভারতীয় সংস্কৃতির আবেগে গা ভাসিয়ে তিনি মেতে ওঠেন গরবা নাচে, নিষ্ঠাভরে অংশ নেন দেবীর আরতিতে এবং প্রত্যক্ষ করেন বিবাহিত বাঙালি মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। পরে সামাজিক মাধ্যমে উৎসবের একাধিক ছবি ভাগ করে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মামদানি লেখেন, কুইন্সে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিউ ইয়র্কবাসীদের সঙ্গে এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে শামিল হতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন।
গত সপ্তাহে ইলিনয়ের মন্দিরে ঘটে যাওয়া আতঙ্কের আবহকে মনে করিয়ে দিয়ে মেয়র ঘৃণা ও হিংসার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দেন। উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর প্যালাটাইনের বাসিন্দা আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস নামে এক ব্যক্তি ইলিনয়ের ওই হিন্দু মন্দিরে ব্যাপক হামলার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের হুমকি দেওয়া এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ টেনে মামদানি জানান, গত সপ্তাহের ওই হামলার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে শহরের বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আনন্দ, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির অংশীদার হওয়া তাঁর কাছে এক বিরাট সম্মান। পারস্পরিক যত্ন নেওয়া এবং ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, “জয় মাতা কি।”
নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়া জোহরান মামদানির ক্ষেত্রে এমন সর্বজনীন সংস্কৃতিতে মেতে ওঠা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও গত আগস্ট মাসে নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ এশীয় প্রবীণ নাগরিকদের একটি সেন্টারে গিয়ে রাখি বন্ধন উৎসবে শামিল হয়েছিলেন তিনি। প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং উগান্ডার বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপক মাহমুদ মামদানির সন্তান জোহরানের বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সংস্কৃতিরই গভীর প্রভাব ছিল। সেই শিকড় থেকেই তিনি বারবার বহুত্ববাদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পক্ষে সওয়াল করে চলেছেন। কুইন্সের এই দুর্গাপূজার মণ্ডপে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি মার্কিন মুলুকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছে এক স্বস্তিদায়ক ও উষ্ণ বার্তা পৌঁছে দিল।
