তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে টাইফুন চাম্পির তাণ্ডব। প্রকৃতির প্রলয়ের সেই নাটকীয় দৃশ্য বন্দি হয়েছে ক্যামেরায়। ঝড়ের গতিতেই তা ভাইরালও হয়েছে সমাজমাধ্যমে। আর, তা দেখেই আঁৎকে উঠছেন নেটাগরিকেরা। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। খবর, টাইফুন চাম্পি দ্বীপটির দিকে এগিয়ে আসায় তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ার পাশাপাশি তীব্রবেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টি চলতে থাকে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়োগুলির একটিতে দেখা গিয়েছে, একের পর এক আকাশছোঁয়া ঢেউ উপকূলের দিকে ধেয়ে এসে প্রচণ্ড শক্তিতে তীরে আছড়ে পড়ছে। বিশাল সেই ঢেউয়ের উচ্চতা এবং শক্তিতে হতভম্ব স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও।
ভাইরাল ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। নাটকীয় দৃশ্যগুলিতে ঝড়ের ক্রমবর্ধমান তাণ্ডব ধরা পড়েছে এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার গতিবেগের এই টাইফুনের বিধ্বংসী তাণ্ডবের জেরে দ্বীপটির বিভিন্ন অংশ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও ছয় মিটারেরও বেশি উঁচু ঢেউ, কোথাও ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া— টাইফুন চাম্পির দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত তাইওয়ানের উপকূল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০ ফুট উঁচু ঢেউ যখন আছড়ে পড়ছে উপকূলে, সেই সময় আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয়েরা। খবর, পূর্বাভাস মতোই তাইওয়ানের উপকূলে তাণ্ডব দেখিয়েছে টাইফুন চাম্পি। প্রবল ঝড় বৃষ্টির জেরে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছেন অনেকে। ব্যাহত বিমান পরিষেবা, বন্ধ করা হয় স্কুল, কলেজ, অফিসও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানে অন্তত এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। শুক্রবার ঝড়ের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকায় প্রায় ১,০০০টি বিমান বাতিল করা হয়েছিল।
টাইফুন চাম্পির প্রভাবে সমুদ্রের ভয়ঙ্কর রূপ দেখা গিয়েছে তাইওয়ানের উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব উপকূলে। উপকূলের দিকে ধেয়ে এসেছে ছয় মিটারেরও বেশি উঁচু ঢেউ। কোথাও আবার ঢেউয়ের উচ্চতা আট মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অনেক রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শক্তিশালী ঢেউয়ের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। শক্তি হারালেও চাম্পির প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলবর্তী এলাকায়।
