Published on
:
1 min read
কলকাতার দুর্গাপুজো দেখার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। শনিবার প্রথম সপ্তমীর রাতে স্বামী আর বোনের সঙ্গে নদিয়ার চাকদহ থেকে ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন আরতি সরকার (৪০)। গিয়েছিলেন চোরবাগান সর্বজনীনে। সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আরতির। স্বামী রাম সরকার ও বোন প্রতিমা প্রামাণিক কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর স্মৃতি এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে রামকে।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন পুজো উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় আচমকাই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। মণ্ডপের বাইরে তখন লম্বা লাইন। অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীদের অনেকেই বেরোতে চাইছিলেন না। মণ্ডপের বেরোনোর গেটের সামনে তাঁরা দাঁড়িয়ে পড়েন। ভিড় বাড়তে থাকে। বাইরে লাইনে দাঁড়ানো দর্শনার্থীরা তখন মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ভিড়ের চাপে মণ্ডপে ওঠার সিঁড়িতে প্রথমে কয়েক জন পড়ে যান। অভিযোগ, তাঁদের উপর দিয়েই অন্য দর্শনার্থীরা ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই পড়ে যান আরতি। তাঁকে কার্যত মাড়িয়ে চলে যায় ভিড়ের একাংশ। রাম আর প্রতিমা কোনও রকমে মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারলেও আরতিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পদপিষ্ট হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
কলকাতায় ঠাকুর দেখতে আসার কথা আগেই আত্মীয় কবিতা বিশ্বাসকে জানিয়েছিলেন আরতি। কবিতার কথায়, ‘শনিবার কথা হয়নি। তবে আগেই জানিয়েছিল ঠাকুর দেখতে যাবে। পরে জানতে পারলাম, এই ঘটনা ঘটেছে।’ আরতির মৃত্যুর খবর চাকদহের বাড়িতে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
পদপিষ্টের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। দেওয়া হবে চিকিৎসার সব খরচও। দুর্ঘটনার পরে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে কলকাতার একাধিক পুজো মণ্ডপও।
