পুজোর মাঝে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা কলকাতার বুকে ক্ষত রেখে গিয়েছে। কিন্তু কার গাফিলতিতে ১৯ জনের প্রাণ গেল, তার যথাযথ তদন্তের জন্য কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো মঙ্গলবারই প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে বিশেষ তদন্তকারী দল অর্থাৎ সিট গঠন করল রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই সিট গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়ে তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই সিট গঠন করা হয়েছে। এই দলে আছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি, আইজি। এছাড়া জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি। চোরবাগানে সেদিন কীভাবে এই বিপর্যয়, মূলত তা খুঁজে বের করাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব। শুধু তাই নয়, নয়া এই কমিটিকে পুরো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কোন সময়ে কোন জায়গায় ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটল, তা যেমন খতিয়ে দেখবেন কমিটির সদস্যরা। একইভাবে ওই মণ্ডপে কত লোক ধরার ক্ষমতা ছিল, তার থেকে বেশি লোক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে। শুধু তাই নয়, বিপর্যয়কে ঘিরে একাধিক তথ্য সামনে আসছে। কোন অংশের দাবি বৃষ্টির জেরে নাকি এই ঘটনা, এমনকী ঘটনার দিন মণ্ডপ ভেঙে পড়ার একটা গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। নেপথ্যে কী? তাও এই কমিটি খুঁজে বের করবে বলে জানা গিয়েছে।
পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা, মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল তাও সিটের তদন্তের আওতায় থাকবে বলে রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়ে তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আজ থেকেই এই নির্দেশিকা লাগু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তৈরি এই সিট ঘটনাস্থলে যাবেন। বলে রাখা প্রয়োজন, চোরবাগানের ঘটনায় জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনায় জড়িতদের কাউকে যে রেয়াত করা হবে না তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এজন্য পৃথক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমও গঠন করা হয়েছে। যেখানে কলকাতা পুলিশ, পুরসভাকে রাখা হয়নি।
