কিংসমীডে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত ভুলে দক্ষিণ আফ্রিকা সেন্ট জর্জেস পার্কে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুর্দান্তভাবে। প্রথম দুই দিনে ৯৭ রানে ৫ উইকেট এবং পরের দিন ১১০ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হওয়ার পর সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার প্রোটিয়ারা তুলে নিয়েছে ইনিংস ও ৩১ রানের এক মহাকাব্যিক জয়। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এখন ১-১ সমতায় ফিরল, যা আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিউল্যান্ডসে সিরিজের রোমাঞ্চকর ফাইনালে গড়ায়।
সংকটময় মুহূর্তে দলের হাল ধরে এই রূপকথার জন্ম দিয়েছেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। প্রথম টেস্টের পর দলের চরিত্র এবং মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল, যার জবাব মাঠে দিয়ে জয়ে ফিরেছে দল। সংবাদ সম্মেলনে বাভুমা জানান, কঠিন পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের নিংড়ে দিয়েছেন, খেলায় টিকে থেকেছেন এবং দলের পক্ষে ফল ছিনিয়ে এনেছেন। ব্যাটিং হোক কিংবা বোলিং, চরম প্রতিকূলতায় দল যে চরিত্র দেখিয়েছে তা ছিল অসাধারণ।
ব্যক্তিগতভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং অধিনায়ক। দলীয় স্কোর যখন ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন ক্যারিয়ারসেরা ১৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন বাভুমা, যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করতে সাহায্য করে। এই পথে মার্কো ইয়ানসেনের সঙ্গে ১৩২ রান এবং সাইমন হার্মারের সঙ্গে ১৮৩ রানের দুর্দান্ত দুটি জুটি গড়েন তিনি। এরপরে বল হাতে তাণ্ডব চালান বোলাররা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৩৩ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন মার্কো ইয়ানসেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাদা। এতে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৫ রানে গুটিয়ে যায়।
ম্যাচ জয়ের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তে উত্তেজনার পারদ কতটা ওপরে ছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক। কাগিসো রাবাদার বলে স্টিভেন স্মিথের পুল শট যখন বাতাসে ভেসে মিডউইকেটের দিকে যায় এবং ম্যাথিউ ব্রিটসকে ক্যাচ লুফে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন স্নায়ুর চাপে মাঠের দিকে তাকাতেই পারেননি বাভুমা। বাতাসের গতিবেগের কারণে সেন্ট জর্জেস পার্কে ক্যাচ ধরা কতটা কঠিন, তা জানা থাকায় উত্তেজনায় নিজের মাথা ঘুরিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
বোলারদের নৈপুণ্যে উইয়ান মুলডারও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ট্র্যাভিস হেড ১২১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাকে থামিয়ে দেন মুলডার। এছাড়া নাইটওয়াচম্যান স্কট বোল্যান্ডের ৪০ রান এবং বিপজ্জনক প্যাট কামিন্সের উইকেট তুলে নিয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। এই আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই এবার নিউল্যান্ডসে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
