কুমিল্লায় যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ গ্রেপ্তার
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কুমিল্লায় যুবদল কর্মী আবু কাউসারকে (৪৩) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ১টার দিকে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকায় অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত আবু কাউসার কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁকে বহনকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন।
নিহতের বন্ধু শামীম হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদের নেতৃত্বে তাঁর ভাই তানজিলসহ কয়েকজন আবু কাউসার ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালান। তৌহিদ আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।
শামীম হোসেনের দাবি, ছত্রখিল এলাকার একটি জমি কেনাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে তৌহিদ ও তানজিলের বিরোধ চলছিল। জমিটি নিজেদের দখলে রাখতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিরোধ মীমাংসার কথা বলে শুক্রবার তাঁদের ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তৌহিদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হলে আবু কাউসার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান (বিপ্লব) জানান, আবু কাউসার আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বড় ভাই কবির হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া তৌহিদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৌহিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর তিনি ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আবু কাউসারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে নন্দিরবাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন তৌহিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। এতে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। বাড়ির জানালার কাচও ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বাড়ির সামনে থাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৌহিদ নামে একজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তৌহিল, তাঁর ভাই তানজিলসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে ওসি বলেন, একদল বিক্ষুব্ধ লোক নন্দিরবাজার এলাকায় তৌহিদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
