স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বান্দরবানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যচিং মার্মাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ৪৩ বছর বয়সী এক নারী বান্দরবান সদর থানায় শৈক্যচিং মার্মার বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত শৈক্যচিং মার্মা বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মার্মার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। অভিযুক্ত শৈক্যচিং মার্মা তার দূরসম্পর্কের দুলাভাই।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত পাঁচ মাস ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বান্দরবান শিশু পার্কের পাশের একটি রিসোর্টে নিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
ঘটনার দিন শুক্রবার ওই নারী ও শৈক্যচিং মার্মা রিসোর্টে দুপুরে একসঙ্গে খাবার খান। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান যে তিনি তাকে বিয়ে করবেন না এবং খারাপ আচরণ শুরু করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এগিয়ে এলে শৈক্যচিং মার্মা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে স্থান ত্যাগ করেন।
বান্দরবান সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে শৈক্যচিং মার্মাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী জানান, শৈক্যচিং মারমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন। একই সঙ্গে শৈক্যচিং মার্মা ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
