নরসিংদীর মনোহরদীতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ভাই-বোনসহ মা বাবাকে তাড়িয়ে দিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ি ফিলে পাওয়ার আশায় মাকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনার কলি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঘটনাটি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের।
মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ রাজু মিয়ার বড় মেয়ে বিউটি গার্মেন্টেসে চাকরি করেন, দ্বিতীয় মেয়ে আনার কলি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তার শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। সে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করে। তার ছোট ভাই মাসুদ নামে এক ভাই বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। ছোট ভাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রাসেল শিক্ষা বিজ্ঞান বিষয়ে বাংলাদেশ টির্চাস ট্রেনিং কলেজে একাদ্বশ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জাবি শিক্ষার্থী আনার কলি তার মা নূরজাহানকে সাথে নিয়ে বিচারের আশায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার সাথে সাক্ষাত করতে আসলে দেখা হয় এবং বিস্তারিত কথা হয়।
এসময় আনার কলি জানায়, আমার মা নূরজাহান বেগম ২০০২ সালে প্রতিবেশী মাবিয়া বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর দলিল ও নামজারি করার পর নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ ভূমি জরিপ (বিআরএস) এতে তাদের নাম রয়েছে। এই জমি টুকু ছোট ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাসেলের নামে দলিল করে দেন মা নুরজাহান। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর হয় প্রতিবেশী হারুন অর রশিদ এই জমিটি দখলের উদ্যেশে আমাদের দুর্বল পেয়ে সকলকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা নানাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে অনেকটাই মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
হারুন অর রশিদ খিদিরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরী শেষে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে নয়াপাড়া এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করে সাথে সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পাশে একটি মাদরাসা নির্মাণ করে পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ জানান, উক্ত জমি আমি দখল করিনি, আমার স্ত্রী প্রতিবেশী সাইফুল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। তবে কবে কিনেছেন কতটুকু কিনেছেন তার সঠিক উত্তির দিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, এবিষয়ে তারা আমাদের হয়রানী করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিচ্ছেন। প্রায় দেড় দুই মাস আগে মনোহরদীর এসিল্যান্ড এ বিষয়ে আমাকে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সজিব মিয়াকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে অফিসের অন্যান্যদের মোবাইলে কল দিলেও তারা কেউ মোবাইল রিসিভ করেননি।
