সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানী রিয়াদ, পবিত্র নগরী মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় আঘাত হানার আগেই একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।
সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। তবে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া রিয়াদের ওপর আরও একটি, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে চারটি এবং দক্ষিণাঞ্চলে দুটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১টি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট। পাশাপাশি নাজরান লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়।
তবে এসব আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানের সময় ভূপাতিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে কোথাও হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি সামরিক জোট। ফলে সর্বশেষ এই হামলা প্রতিহত করার ঘটনায় মাঠপর্যায়ে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর মাত্র এক দিন আগে, বুধবার সৌদি আরবে ড্রোন হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির খবর সামনে আসে। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি অ্যারামকোর একটি তেল স্থাপনা এবং দাম্মামের বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘটনায় প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছিল।
বুধবারই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আরও সাতটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার দাবি জানায়। এর পরদিন নতুন করে ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে এসব হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জোটের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলাগুলোর পেছনে কারা সরাসরি জড়িত, উৎক্ষেপণস্থল কোথায় এবং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে আগের হামলাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই সামরিক জোটের দাবির পাশাপাশি এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
-20261023052742.jpg&w=1440&q=75)