আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ নদীতে জলস্তর কমে যাওয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন নির্দিষ্ট ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি সেরেছে। জলস্তর কমে যাওয়ায় বিসর্জনের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত জল নেই। এছাড়া নদীর গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ এবং হঠাৎ হড়পা বান (ফ্ল্যাশ ফ্লাড)-এর আশঙ্কার মতো বিষয়গুলো, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য সেচ দপ্তর নদীর নির্দিষ্ট কিছু অংশ ড্রেজিং (খনন) করার এবং বিসর্জনের ঘাটগুলিতে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ জলপথ বা চ্যানেল তৈরির ব্যবস্থা করেছে। দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, শিলিগুড়ির মহানন্দা, কোচবিহারের তোর্সা এবং জলপাইগুড়ির তিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের অনেক নদীতেই বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর কাছে পর্যাপ্ত জল নেই।
এই সমস্যা সমাধানে নদীর নির্দিষ্ট কিছু অংশে চ্যানেল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ঘাট পর্যন্ত জল পৌঁছাতে পারে। তবে জলপাইগুড়ির বানারহাটে ডায়না নদীর একটি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দপ্তর, কারণ ওই অংশে নদীর গভীরতা অনেক বেশি।
সেচ দপ্তরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার (উত্তর-পূর্ব) কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, “নদীর পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং বিসর্জনের ঘাটগুলিতে যাতে পর্যাপ্ত জল থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি শহরের কারলা নদী-সহ বেশ কয়েকটি বিসর্জন স্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় জলপাইগুড়ি পৌরসভা, প্রশাসন এবং পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দলটি ঘাটগুলোর পরিকাঠামো, নদীর গভীরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
সেচ দপ্তরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার (উত্তর-পূর্ব) জানান, তাঁর দপ্তরের কর্তারা- প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিসর্জনের ঘাটগুলো পরিদর্শন করবেন, নদীর গভীরতার ওপর নজর রাখবেন এবং প্রয়োজনে সতর্কবার্তা জারি করবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কেবল দুর্গাপুোর সময়েই নয়, বরং কালীপূজা ও ছট পুজোর সময়ও বলবৎ থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল- প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার, নজরদারি জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ব্যারিকেড বসানোর মাধ্যমে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। একই সঙ্গে, প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত জল সরবরাহের ব্যবস্থাও আমরা নিশ্চিত করছি।”
