ডেস্ক রিপার্ট: সাভারের আশুলিয়ায় ডেকো গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে’ কর্মরত অবস্থায় সুমি আক্তার মিশু নামে একজন নারী শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাঠগড়ায় বিক্ষোভ করেছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। ওই নারী কর্মী আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি, উপরন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তাকে মানসিক নির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন।
১৯ অক্টোবর সোমবার মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেনের সঞ্চালনায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি— এনসিপি'র ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এই শ্রমিক হত্যাকাণ্ডকে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “সুমির মৃত্যু কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, এটা একটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।” এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়তে রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলা আছে বলেও ক্ষোভ জানান তিনি।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ফকির নারী শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চাকরি থেকে অপসারণ এবং বিচার দাবি করে বলেন, “মালিক পক্ষের লোকেরা আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করে। আমাদেরকে আড়ালে ডেকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। তাদেরকে বলতে চাই আমরা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব না।”
সংগঠনটির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ বিক্ষুব্ধতার সাথে বলেন, “সুমির হত্যায় বাংলাদেশের সকল শ্রেণির মানুষ ব্যথিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা তৈরি হয়েছে মালিকের জন্য। মালিকের পক্ষে সমস্ত আইন। মালিকপক্ষের কোনো অনুশোচনা নেই-ই, বরং কি দাম্ভিকতার সাথে বলে বেড়াচ্ছে কাফনের কাপড় কেনার জন্য, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি! আমরা বাংলাদেশের সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে সাথে নিয়ে মালিকপক্ষের এই দাম্ভিকতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপরিবেশসহ জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি কর্ম ঘণ্টা ১০০ টাকা বা ৩০ হাজার টাকা মজুরি নিশ্চিত করবো।”
সংহতি বক্তব্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রিফাত রশিদ বলেন, “শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে পুলিশি রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে, সুমির মতো পরিস্থিতি আর কারো যাতে না হয় এর জন্য আজকে সংহতি জানাতে এসেছি।”
সংক্ষিপ্ত এই সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফয়সাল, চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক শেখ রুবেলসহ সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ। শ্রমিকদের সাথে নির্মমতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. ডেকো গ্রুপের আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় কর্মকাণ্ডে মানসিক নির্যাতনে হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত লাইন চিফ, প্রোডাকশন ম্যানেজার ও জেনারেল ম্যানেজার, চাকরি থেকে অপসারণ করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। মালিককে গ্রেফতার করতে হবে।
৩. গার্মেন্টস শ্রমিকের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আগামী ৭ কর্মদিবসের মাঝে শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের আদলে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এটিভি/এইচকে
