Published on
:
3 min read
কেউ দেখে শেখেন, কেউ ঠকে শেখেন। ঠকে শেখার সেই অভিজ্ঞতাকে জীবনে চলার পথে কাজে লাগানো হয়। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা যদি কেউ কুকাজে লাগান! সেরকমই উদাহরণ তৈরি করেছেন ইন্দোরের এক বাসিন্দা। নাম পঙ্কজ গুপ্তা। পেশায় গ্রাফিক ডিজ়াইনার। ৩৬ বছর বয়সি ওই যুবক বেশ কয়েকবছর আগে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর শিকার হয়েছিলেন। প্রতারকদের কাছে ঠকেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই নেমে পড়েন প্রতারণার জগতে। তৈরি করে ফেলেন ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। ইন্ডিয়া টু ডে-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৯,৬৭৩ জনের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। সম্প্রতি পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ।
এক নজরে
অভিযুক্ত: ইন্দোরের ৩৬ বছর বয়সি গ্রাফিক ডিজাইনার পঙ্কজ গুপ্তা।
গ্রেফতার: মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের হাতে।
প্রতারণার অঙ্ক: প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বলে পুলিশের দাবি।
প্রতারণার শিকার: দেশজুড়ে ৯,৬৭৩ জন।
কী ভাবে সামনে এল পঙ্কজের প্রতারণার ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৩ অগস্ট মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকার এক প্রবীণ নাগরিক একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ব্যক্তি জানান, তাঁকে সিনিয়র সিটিজেন কার্ড সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোবাইলে একটি APK ফাইলের লিঙ্ক পাঠানো হয়। সেই অ্যাপটি ইনস্টল করার জন্য প্রদত্ত একটি লিঙ্কে ক্লিক করতেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫.৬২ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই সাইবার অপরাধের তদন্তে নামে মুম্বই ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ। তদন্তের গভীরে ঢুকে ওই অ্যাপ প্রস্তুতকারককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে পুলিশ। ধরা পড়েন পঙ্কজ।
কী ভাবে প্রতারণা শুরু করেন অভিযুক্ত?
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, গ্রাফিক ডিজ়াইনিংয়ের পাশাপাশি পঙ্কজ কোডিং-এর কাজেও দক্ষ ছিলেন। বেশ কিছু সরকারি বা পরিষেবামূলক কাজের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির কাজে নেমে পড়েন তিনি। সিনিয়র সিটিজেন কার্ড যাচাই, ই-ট্রাফিক চালান, পেনশন যাচাই, ক্রেডিট কার্ড আপডেট, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার পোর্টাল– এই ধরনের পরিষেবামূলক কাজের জন্য ভুয়ো অ্যাপ তৈরি করতে শুরু করেন।
তবে এই অ্যাপ তিনি নিজে কাজে লাগাতেন না। বরং সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে .apk ফাইল বিক্রি করতেন। পুলিশ দাবি করেছে, পঙ্কজ বিভিন্ন সংস্থার সার্ভার ভাড়া করে ক্ষতিকর অ্যাপের তথ্য সংরক্ষণ করতেন। পরে বিহার ও ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সাইবার অপরাধী চক্রের কাছে সেই APK ফাইল বিক্রি করতেন। প্রতিটি ক্ষতিকর APK ফাইলের জন্য ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হত। মোট ২,৮০৫টি APK তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অ্যাপ-এর সাহায্যে দেশজুড়ে মোট ৯,৬৭৩ জনকে ফাঁসানো হয়েছে। জাতীয় সাইবার অপরাধ দমন আইনে এই সংক্রান্ত ১,০৭৪টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের ১৪২টি এবং মুম্বইয়ের ৩৬টি অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্তে শুধু APK তৈরি করা ব্যক্তির ভূমিকা নয়, সেগুলি কিনে ব্যবহার করা সাইবার অপরাধী চক্রগুলির কার্যকলাপও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
FAQ
১. পঙ্কজ গুপ্তা কে?
পঙ্কজ গুপ্তা ইন্দোরের ৩৬ বছর বয়সি এক গ্রাফিক ডিজাইনার। পুলিশের অভিযোগ, তিনি ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বা APK ফাইল তৈরি করে সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করতেন।
২. কীভাবে ১৫০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এল?
মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকার এক প্রবীণ নাগরিকের অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের নামে পাঠানো APK ইনস্টল করার পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫.৬২ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
৩. পঙ্কজ গুপ্তা কতগুলি ভুয়ো APK তৈরি করেছিলেন?
পুলিশের দাবি, পঙ্কজ মোট ২,৮০৫টি ক্ষতিকর APK ফাইল তৈরি ও সরবরাহ করেছিলেন। প্রতিটি ফাইলের জন্য ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ।
৪. ভুয়ো APK ফাইলের মাধ্যমে কীভাবে প্রতারণা করা হত?
সরকারি পরিষেবা বা ব্যাঙ্কিং সুবিধার নামে ভুয়ো অ্যাপ ইনস্টল করানো হত। ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য চুরি করে আর্থিক প্রতারণা চালানো হতে পারে।
৫. APK ফাইলের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
অপরিচিত লিঙ্ক থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করবেন না। সরকারি পরিষেবার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের আসল ওয়েবসাইট বা বিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করুন। OTP, PIN বা ব্যাঙ্কিংয়ের গোপন তথ্য কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ১৯৩০ নম্বরে ফোন করুন অথবা জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ জানান।
