দীপাবলির আগে অনুসারীদের (ফলোয়ার) কাছে মিষ্টি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেছিলেন ভারতের এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার। এরপর তার নামে দেয়া হয় পাঁচ শতাধিক ভুয়া ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি) অর্ডার। বারবার ডেলিভারি কর্মীদের বাড়িতে আসা ও অসংখ্য ফোনকলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছাড়তে হয়েছে তাকে।
তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরের বাসিন্দা বীরামণি হাস্যরসাত্মক ভিডিও এবং মাদুরাই অঞ্চলের স্বতন্ত্র কথ্য ভাষার ব্যবহারের জন্য পরিচিত। তার স্ত্রী সুমঙ্গলি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়েছে। তাদের বাড়িওয়ালাও বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছেন। এরই মধ্যে তারা বাড়িটি ছেড়ে চলে গেছেন।
দীপাবলির আগে বীরামণি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা শেয়ার করে অনুসারীদের মিষ্টি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ট্রলকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, জোম্যাটো ও ব্লিঙ্কিটের মাধ্যমে ভুয়া অর্ডার দেন। এসব অর্ডারের মধ্যে লাখ লাখ রুপি মূল্যের দামি ইলেকট্রনিক পণ্য ও গৃহস্থালির সরঞ্জামও ছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুমঙ্গলি বলেন, তার স্বামী মিষ্টি খেতে চেয়েছিলেন বলেই তাদের বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর তার নামে একের পর এক সিওডি অর্ডার আসতে শুরু করে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি কর্মীরা বারবার তাদের বাড়িতে আসতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া ঠেকাতে তারা শহর ছেড়ে চলে যান।
সুমঙ্গলি বলেন, ‘আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি, আমাদের ঠিকানায় সিওডি অর্ডার দেওয়া বন্ধ করুন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। আমরা ইতিমধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছি। ভবিষ্যতে কেউ যেন আর এ ধরনের কাজ না করেন, সেই অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ভুয়া অর্ডারের কারণে ডেলিভারি কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনায় সময়, জ্বালানি ও শ্রমের অপচয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা অর্ডার দেয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং পণ্য পৌছে দেওয়ার পরও টাকা দিতে রাজি হন না।
ডেলিভারি কর্মীরা বলেন, ‘সিওডি অর্ডার পৌছে দিতে গিয়ে আমরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়ি, যখন গ্রাহকেরা বলেন, তারা অর্ডার দেননি এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। গ্রাহকের অবস্থানে পৌঁছাতে আমাদের সময় ও জ্বালানি খরচ হয়। কিন্তু এসব ভুয়া অর্ডারের কারণে আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা যায়। অন্যের ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া অর্ডার দেয়ার ফলে আমাদের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
সূত্র: সিএনবিসি টিভি১৮
