তিন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা, মোহনপুরের লালইচ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন
রাজশাহী ব্যুরো
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯২৫ সালে গিরিধর সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি শত বছর পেরিয়ে এখন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠশালা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিদ্যালয়টির শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
শতবর্ষ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইতিহাস ও প্রবীণদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, এক শতাব্দী আগে এলাকায় শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে গিরিধর সরকার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। শুরুতে একটি বারান্দায় পাঠদান চলত। পরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষার পরিধি।
বিদ্যালয়টি থেকে পড়াশোনা করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান শেখ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য রয়েছেন সাতজন শিক্ষক। আছেন একজন অফিস সহকারী। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি পাঠাগার। তবে শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে নির্মিত একটি ভবন বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. খলিলুর রহমান শেখ। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোহনপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আব্দুস সামাদ ও বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা মাস্তুরা পারভীন।
শতবর্ষ উদযাপনে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহণে অতীতের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রত্যাশা উঠে আসে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করা বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
