Published on
:
2 min read
ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর শতবর্ষের পুরোনো ম্যান্ডেল হলে আগামী ২৪ ও ২৫ অক্টোবর পুজো হবে। প্রবাসী বাঙালিরা কোনও বাঙালি পার্বণে ছুটি পান না। বিদেশে সপ্তাহের শেষে থাকে ছুটি। তাই সমস্ত অনুষ্ঠানে ওই দিনগুলিই বেছে নেন তাঁরা। এই বছরও আমেরিকার শিকাগো শহরের প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে বিদেশে জোরকদমে চলেছে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) প্রস্তুতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি পড়ুয়া, গবেষক এবং প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে এ বারের পুজোর মণ্ডপে বাংলার শিল্প, বাণিজ্য ও কারুশিল্পের ইতিহাস দেখা যাবে। তবে এই উৎসব শুধু বাঙালিদের মিলনমেলা নয়, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে ভিনদেশি ও নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও সামাজিক সংগঠন খেয়াল-এর সদস্যরা সীমিত বাজেট ও অল্প উপকরণ নিয়েই বেশ কয়েক মাস আগে থেকে শুরু করে দিয়েছেন পুজোর কাজ। কলকাতার থিম পুজোর আমেজ তৈরি করা হবে বিদেশে। সাজসজ্জায় জায়গা পেয়েছে বাংলার টেরাকোটা, ডোকরা, আলপনা ও শোলার কাজ। এই পুজোয় বেঙ্গল কেমিক্যালস থেকে বোরোলিন, ঐতিহাসিক মসলিন বাণিজ্য, নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলার বাণিজ্যিক ঐতিহ্য এবং এক সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা।
এই বছর পুজোয় কুমোরটুলি থেকে আনা হয়েছে প্রায় ছয় ফুটের দুর্গাপ্রতিমা। তার পাশাপাশি রয়েছে সদস্যদের হাতে তৈরি ছোট দুর্গামূর্তিও। পুষ্পাঞ্জলি ও আরতির দায়িত্বে থাকবেন আত্রেয়ী ঘোষ। ভোগেও থাকছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া, খিচুড়ি, লাবড়া ও রসগোল্লা। সঙ্গে দুই সন্ধ্যার নৈশভোজে বাঙালির পাতে পড়বে পোলাও, লুচি, আলুর দম, কষা মাংস ও ক্ষীরকদম থাকছে। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্যাম্পাসে বসবে ছোট মেলাও। সেখানে মিলবে ফুচকা, ঘুগনি, রোল, চিলি ফিশ, ফিউশন মিষ্টি, হস্তশিল্প, ভারতীয় গয়না ও পোশাক। মেহন্দির স্টল এবং সকলের জন্য ধুনুচি নাচে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
ভুরিভোজের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। পরিবেশন করা হবে বাংলা আধুনিক গান ও রক ফিউশন। বিভিন্ন দেশের সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি বাংলা ব্যান্ডও শোনাবে বাংলা লোকগান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক অনন্যা সাহার উদ্যোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে আসা দশ জন সদস্য বিশেষ পরিবেশনা তৈরি করেছেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গীতকে কেন্দ্র করে। সত্যজিতের সৃষ্টির প্রতি তাঁদের আগ্রহ এই উৎসবের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের দিকটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
খেয়ালের নৃত্যশাখা পেখমের পরিবেশনায় থাকছে ভাটিয়ালি, সারি, জারি, বাউল, লালনগীতি, মনসামঙ্গল ও মনসা-পাঁচালির মতো বাংলার লোকজ ঐতিহ্য। জায়গা পাবে আধুনিক বাংলা পুজোর গানও। পাশাপাশি, সোহিনী সেনগুপ্ত, সৌরভ চট্টোপাধ্যায় ও প্রাক্তন ছাত্র সৌমিকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম পুজোবার্ষিকী। তাতে লিখেছেন প্রচেত গুপ্ত ও দীপেশ চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট লেখকরা।
গবেষণা ও পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও খেয়ালের সদস্যদের এই সম্মিলিত উদ্যোগের মূল রয়েছে বিদেশের মাটিতে নিজেদের শিকড়কে নতুন করে খুঁজে পাওয়া এবং সেই ঐতিহ্যকে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।
