সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ফাইনালে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি রান রেটের জটিল হিসাবও মেলাতে হতো বাংলাদেশকে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ছিল তাদের সামনে। তবে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর বল হাতেও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারকে হারানোর পর ব্যর্থতার কাব্য রচনা করেছেম নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। দ্রুত উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের আশা তখনই অনেকটা ফিকে হয়ে যায়।
বিপর্যয়ের মধ্যে এক প্রান্ত আগলে রাখেন সাইফ হাসান। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রতিরোধ গড়েন চোটে পড়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। তবে সাইফ ৪১ রান করে বিদায় নেওয়ার পরের ওভারেই ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে আবারও ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসে।
দলের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ইমন। ৯৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে সাইফ ৮২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৪১ রান। শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। এই তিনজন ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। চার ব্যাটার ফিরেছেন শূন্যের ঘরে থেকেই। আফগানদের হয়ে একাই চার উইকেট শিকার করেছেন রশিদ খান।
স্বল্প পুঁজি নিয়েও বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ শুরু করেন তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন। ৮ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফগান ওপেনার। এরপর নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে সেদিকুল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানকে আরও চাপে ফেলেন এই পেসার।
শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়লেও দ্রুতই পরিস্থিতি সামলে নেয় আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেন। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আফগানদের হাতে। তাঁদের পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ আশাটুকুও প্রায় শেষ করে দেয়।
দলীয় ৯৫ রানে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ইব্রাহিম জাদরান ফিরলে ভাঙে রহমত শাহর সঙ্গে তাঁর ৫৬ রানের জুটি। ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন জাদরান। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন রহমত শাহ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান তিনি। শেষে হাশমাতুল্লাহ শহিদির সাথে অপরাজিত ৬৪ রানের জুটিতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৭ রানে এবং শহিদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন তাসকিন আর মুস্তাফিজের শিকার এক উইকেট।
আগামী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান।
