গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২০ অক্টোবর) মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ওই শিশু ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা করেন উপাধ্যক্ষ মুসলেউদ্দিন। কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দেওয়ায় শিশুটি চরম আতঙ্কে পড়ে এবং তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বললে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে এর জবাব চান।
ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় জানাজানি হলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘেরাও করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, একদল লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অর্থ লুটের বা এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের আশঙ্কা, একটি পক্ষ মূল ঘটনা আড়াল করতে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
