পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। এবার মুখ খুলেছেন তার বোন এলমা অ্যাভেইরো। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরা কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তার মতে, দুজনই এই ঘটনায় আঘাত পেয়েছেন। আর বিশ্বাসে চিড় ধরলে আগের অবস্থায় ফেরা সহজ নয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এলমা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচ জেসুসও। এলমার মন্তব্যে পর্তুগাল দলের তারকা ফুটবলারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এলমা বলেন, ‘না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয়, দুজনই আঘাত পেয়েছেন। পরিস্থিতিটা তারা নিজেরা মোকাবিলা করেছেন, আমি নই। আমি আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে বলছি।’
পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি থমকে আছে। দেখা যাক কী হয়। আমি জানি না, পরিস্থিতি খুব জটিল। যখন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন।’
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ার পর পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। এ ঘটনা ঘিরে কোচ জেসুসের সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপোড়েনের খবর সামনে আসে।
রোনালদো পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দীর্ঘ বিবৃতি দেন। খেলার সময় নিয়ে জেসুস তার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রাখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে পর্তুগালের হয়ে খেলার আগ্রহও বজায় রাখেন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) যেকোনো শাস্তি মেনে নেয়ার কথা জানান।
এরপর শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া চলার মধ্যে রোনালদোর বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেডারেশন। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো অনিশ্চিত।
এলমা অ্যাভেইরো মনে করেন, পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। ভাইকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তাকে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে রোনালদোর মা দোলোরেস অ্যাভেইরোও ছেলের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতির সমাধান চান রোনালদোর সতীর্থরাও। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত বিরোধ মিটে যাবে এবং রোনালদো আবার দলে ফিরবেন।
ভিতিনিয়া বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে শুধু এটাই আশা করি, সবকিছু যেন ভালোভাবে মিটে যায়। আমি আশা করি, সে (রোনালদো) ফিরবে এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এটাই চাই।’
পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি তাই সমর্থকদের কাছে বড় আলোচনার বিষয়। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাকে ছাড়াও জয় পেয়েছে পর্তুগাল। তবে আগামী ম্যাচগুলো সামনে রেখে দলের এই অভিজ্ঞ তারকার ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
