উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ছাদ থেকে পড়ার পরই সেখানে একটি সাদারঙা গাড়ি এসেছিল। এ ছাড়াও ঘটনার পর পরই কয়েক জনকে ফ্ল্যাট থেকে বার হতে দেখা যায়। ওই সাদারঙা গাড়ি কার, তা ঘিরে রহস্য বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, ফ্ল্যাটে কারা এসেছিলেন, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ফলে শিবা চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, ঝাঁপ দিয়েছিলেন না কি এটি কোনও পরিকল্পিত খুন, সেই প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, চারতলা ওই বাড়িতে ফ্ল্যাট রয়েছে শিবার লিভ ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা দুবের। ঘটনাচক্রে, শিবার মৃত্যুর পর থেকে পলাতক তিনি। লিভ ইন সঙ্গীর ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন শিবা। ওই ফ্ল্যাট থেকে যৌনবর্ধক ওষুধ, সেক্স টয়-সহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিবার দেহ যখন উদ্ধার হয়, তাঁর পরনে ছিল অন্তর্বাস। ৯ অক্টোবর রাতে শ্রদ্ধার ফ্ল্যাটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং চারতলা থেকে শিবা কী ভাবে পড়ে গেলেন, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং তাঁর গাড়িচালক আদিল-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে শিবাকে খুনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা রঞ্জনা শর্মা। তাঁর দাবি, শিবার গায়ে লিপস্টিকের দাগ মিলেছে। শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত, সিগারেটের ছ্যাঁকার চিহ্ন মিলেছে। আর এখান থেকে তাঁদের সন্দেহ, শিবাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। ওই আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, একটি ফুটেজে কয়েক জনকে ফ্ল্যাট থেকে বার হতে দেখা যায়। আরও একটি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার ১৫ মিনিট পর একটি সাদারঙা এসইউভি এসে থামে আবাসনের সামনে। সেই গাড়িতে ভিআইপি বোর্ড লাগানো ছিল। কিছু ক্ষণ অপেক্ষার পর সেটি চলে যায়। ওই গাড়িটি কার, কেনই বা আবাসনে এসেছিল, গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শিবার মা রঞ্জনার দাবি, গত চার মাস ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্ক ছিল তাঁর ছেলের। রঞ্জনার অভিযোগ, শিবাকে মারধর করতেন শ্রদ্ধা। তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা এবং জেলে পাঠানোরও হুমকি দিচ্ছিলেন। তদন্তকারীরা শিবার মায়ের দাবি এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শিবার বিরুদ্ধে অপরাধের পুরনো মামলা ঝুলছিল। ৩০ অগস্ট গোমতীনগরে গুলি চলার একটি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন শিবা। পটনা থেকে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। সম্প্রতি জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
