October 25, 2026, 2:19 am
সিইসি জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ‘জনতার অভিশংসন’ ঘোষণা
Reporter Name
- Update Time : Sunday, October 25, 2026
- 0 Time View
রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তার পদ থেকে অপসারণের জোরালো দাবিতে এবার প্রকাশ্য রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য কে সি বেণুগোপাল এই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির বিস্তারিত দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকীভাবে ‘জনতার অভিশংসন’ বা পাবলিক ইমপিচমেন্ট কর্মসূচি পালন করবে বিরোধী জোট। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং সাংবিধানিক পদের অপব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো। ৩০ অক্টোবরের এই আয়োজনের ঠিক পরপরই ভোট কারচুপির প্রতিবাদে ‘দিল্লি চলো’ শীর্ষক একটি বিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এই পদযাত্রা শুরু হয়ে রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রদক্ষিণ করবে।
বিরোধীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে গিয়ে এই ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হবে। এই সমাপনী সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ১০ লাখ সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন বলে জোরালো দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল। রাজধানীতে বিশাল এই লোকসমাগম ঘটাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর উপধারায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণের সমতুল্য পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট কিছু কারণে পদচ্যুত করার আইনগত বিধান রয়েছে। তবে সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদে ‘অভিশংসন’ বা ইমপিচমেন্ট শব্দটি কেবল রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে বিরোধীদের বর্তমান এই ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচিটি মূলত একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সরাসরি কোনো সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়। তা সত্ত্বেও এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ দিল্লির রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


