সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য পদবণ্টন ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। এ প্রেক্ষাপটে মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ নেতা আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের নাম। তাকে সদস্যসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দেখতে চান তার সমর্থক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিলেট মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আজমল বখত চৌধুরী সাদেককে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে সাদেকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতি শেষে সিলেট মহানগর বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন সাদেক। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তিনি সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তার সমর্থকদের দাবি, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকটের সময়ে সাদেক সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রেখেছেন। রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিতিকে তার সাংগঠনিক শক্তি হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অভিজ্ঞ নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের সময় দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে সম্ভাব্য পদবণ্টন নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে আজমল বখত চৌধুরী সাদেক বলেন, আমি আশাবাদী, দলের প্রতি আমার শ্রম ও আনুগত্য কেন্দ্র মূল্যায়ন করবে। জাতীয়তাবাদী দলের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। দুর্দিনে সরে যাইনি; বরং ঝুঁকি মাথায় নিয়ে রাজপথে থেকেছি। এ জন্য অসংখ্যবার কারাভোগ করতে হয়েছে। নিশ্চয়ই দল এসব মূল্যায়ন করবে।
নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত আজমল বখত চৌধুরী সাদেক দায়িত্ব পান কি না, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর। তবে তাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও আলোচনা সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
