ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে বিএনপি সরকারকে আবারও ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, আসনটিতে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে। একই সঙ্গে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, অতীতে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে এমপি-মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হওয়া ব্যক্তিরা এলাকার উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ আনলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়নি। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের অর্থ বিএনপির নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়েছে। এবারও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হলে বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকে কোনো একটি পরিবারের কাছে বন্দি করে রাখা যাবে না। দীর্ঘদিনের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে অনিয়মের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে আটকে রেখে ভোটের হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের ফলাফলে কারচুপি কিংবা সরকারদলীয় প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালানোর সুযোগ পাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, নিজেদের অতীত আড়াল করতেই দলটির বিরুদ্ধে নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এসব প্রচার জনগণ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচিত হলে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকায় মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ, প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু এবং বেকারত্ব কমাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
এ ছাড়া বন্ধ বিমানবন্দর চালু, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল কলেজের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ করা এবং সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে।
বিএনপি সরকারের সাত মাস পার হলেও ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূল হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া বন্ধ করার কথাও বলেন।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা হবে। উন্নয়ন বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাবও জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
জনসভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লা সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নাগরিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের পরিচালনায় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এমএ
