প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ · ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন ধানের সবুজ সমারোহ। কোথাও ধানের চারা সবুজে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি, আবার কোথাও গাছে গাছে বের হতে শুরু করেছে ধানের শীষ। ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। তবে আমনের আবাদ বাড়লেও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের। ডিজেল, রাসায়নিক সার ও সেচের বাড়তি খরচে এবার লাভের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।
জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মধ্যনগর ও জামালগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের অনেক জমি এখনো পানিতে ডুবে থাকায় সেখানে আমনের সবুজের বিস্তার তুলনামূলক কম। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে বেড়ে উঠছে রোপা আমন। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অনিয়মে চাষাবাদ ব্যাহত হলেও পরে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় অনেক জমিতে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮২ হাজার ৬৬০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে।
তবে আবাদ বাড়লেও উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে আমন চাষে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দিতে হয়েছে। এতে ডিজেল খরচও বেড়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক সমুজ আলী বলেন, ‘রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় জমি একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছিল। চাষাবাদ করতে পারছিলাম না। চারাগুলোও শুকিয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। সেচপাম্প দিয়ে পানি দিয়ে চারাগাছ সতেজ রাখা হয়। পরে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক শাহিন মিয়া, মনসুর আলী ও সোন মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আমন চাষে খরা, বন্যা, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই মোকাবিলা করতে হয়। এসব সংকটের সময়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে দিলে কৃষকের উপকার হবে। নতুবা আমরা চাষ করে লাভবান হতে পারব না। সরকার এ বিষয়ে একটু নজর দিলে কৃষক পরিবারের উপকার হবে।’
কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা, সেচ খরচ কমানো এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রোপা আমনের আবাদ বেড়েছে। আগামী বছরও এ ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে কৃষি বিভাগ।
তিনি বলেন, ধানখেতে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে কৃষকদের বলা হচ্ছে। চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও খেত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি জমিতে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
