পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া এবং পরে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ওয়েইন রুনি। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ইংলিশ গ্রেট। তার মতে, রোনালদো শুধু কোচ কিংবা সতীর্থদেরই নয়, বরং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকেও অসম্মান করেছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝপথে পর্তুগালের প্রধান কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। এর কয়েক দিন পর তিনি সামাজিক মধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতিতে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইলেও, কোচের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ অভিযোগ আনেন এবং নিজেকে পেলে ও দিয়েগো মারাদোনার কাতারে দাঁড় করান।
‘দা ইউনাইটেড স্ট্যান্ড’ অনুষ্ঠানে সাবেক রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুনি।
“রোনালদোর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমার একটাই প্রশ্ন: ‘কেন?’ ঠিক যেদিন (লিওনেল) মেসি আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসর নিচ্ছিল, সেদিনই পর্তুগাল দল ছেড়ে চলে আসা নিয়ে রোনালদোর এমন বিবৃতি দেওয়াটা... সব দিক থেকেই ভুল ছিল।
“সে যেভাবে নিজের কোচ ও সতীর্থদের ছোট করেছে-তা ছিল অত্যন্ত ভুল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে খাটো করে দেখা-পুরো বিষয়টিই ছিল ভুল। ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিংবা একজন সতীর্থ ও কোচের অবস্থান থেকে—বিষয়টি মোটেও সুখকর ছিল না।
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা যেভাবে এগোচ্ছে, সেটিও ভালো লাগছে না রুনির।
“সব খেলোয়াড়কেই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয়; দুর্ভাগ্যবশত রোনালদো বিষয়টি ভালোভাবে সামলাতে পারছে না। এটা দেখাটা বেশ অস্বস্তিকর।”
ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের স্বর্ণযুগে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রুনি ও রোনালদো একসঙ্গে খেলেছেন। রুনি ইউনাইটেড ছাড়ার আট বছর আগেই রোনালদো রেয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে একসঙ্গে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ বেশ কয়েকটি শিরোপা জেতেন তারা।
রোনালদোর বিবৃতির একটি অংশ রুনিকে বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। নরওয়ের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচে রোনালদোকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামানো হয়নি-ঘটনাটি নিয়ে যখন বিতর্ক দানা বাঁধছিল, সেই বিষয়ে কোচ জেজুসকে সংবাদ সম্মেলনে কী বলতে হতো, তার একটি তালিকা ওই বিবৃতিতে দিয়েছিলেন রোনালদো।
“কোচকে বলে দিতে পারেন না যে, তাকে কী বলতে হবে। এমন কিছু আমি আমার জীবনে কখনও দেখিনি।”
ওই বিবৃতিতে রোনালদো আরও বলেন যে, ডাক পেলে তিনি পর্তুগালের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। চূড়ান্ত শাস্তি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
