রেয়াল মাদ্রিদ টিভি ও ক্লাবের ম্যানেজমেন্টের বক্তব্যকে জার্মানিতে নাৎসি পার্টির ব্যবহৃত প্রচার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করার ঘটনায়, লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের বিরুদ্ধে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি)।
সিএসডি ট্রাইব্যুনালের কাছে জানতে চেয়েছে, তেবাসের মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা ও শালীনতা রক্ষার নিয়মগুলো লঙ্ঘন করেছে কি না।
৬৪ বছর বয়সি তেবাস গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ওই মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় একই দিন রেয়াল মাদ্রিদ কড়া বিবৃতি দিয়ে অবিলম্বে লা লিগা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে।
তেবাসের দাবি, তিনি রেয়াল মাদ্রিদের আদর্শ বা তাদের সমর্থকদের সঙ্গে নাৎসি পার্টির কোনো তুলনা করেননি, বরং শুধু ক্লাবটির প্রচারণা কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বৃহস্পতিবার সিএসডি জানায়, তারা বিষয়টি স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের নজরে এনেছে।
সিএসডি স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালকে খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছে যে, তেবাসের বক্তব্য ‘ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ’ এর লঙ্ঘন করে কি না। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা বা শালীনতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ড’ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এই ধরনের অপরাধের জন্য সতর্কবার্তা, জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।
সিএসডি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পরপরই তেবাস সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন যে, ওই মন্তব্যে তিনি আদর্শ এবং প্রচারণামূলক কৌশলের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছিলেন।
তেবাস আরও বলেন, লা লিগার সততা নিয়ে রেয়াল মাদ্রিদ যে প্রশ্ন তুলেছে, তার ভিত্তিতে সিএসডি চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
তেবাস লেখেন, “প্রতিযোগিতাকে রক্ষা করার অর্থ হলো, যারা প্রতিনিয়ত এর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে, তাদের জবাব দেওয়া। এটি আমার দায়িত্বের অংশ এবং আমি তা পালন করে যাব।”
রেয়ালের সঙ্গে তেবাসের বিরোধ অনেক দিনের। গত সেপ্টেম্বরে নতুন একজন লা লিগা সভাপতির দাবি জানিয়েছিল রেয়াল, কারণ রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের অভিযোগকে মাঠের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য ‘ধোঁয়াশা’ বলে অভিহিত করেছিলেন তেবাস।
২০১৩ সাল থেকে লা লিগার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তেবাস। ২০২৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হন, যেটির মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত।
