কেরলমের রাস্তায় গভীর রাতে দুর্ঘটনা। মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়ল বাইক। মৃত্যু হল তিন আরোহীরই। কিন্তু তাঁর গাড়ির ধাক্কায় তিন জনের মৃত্যুর পরেও নির্বিকার ঘাতক মিনি কুপারের অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সি চালক। পুলিশকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘ব্যাপারটা’ তাঁর বাবা বুঝে নেবেন।
কোচি বিমানবন্দরের সামনের রাস্তায় রবিবার রাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইজাজ নামে এক যুবক বাইক চালাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন গোপিকা এবং দেবিকা নামে দুই তরুণী। তিন জনেরই বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। নিকটবর্তী একটি বেসরকারি সংস্থার তাঁরা কর্মরত ছিলেন। রাতের ডিউটি চলাকালীন চা খেতে বেরিয়েছিলেন। আচমকা পিছন দিক থেকে মিনি কুপার ওই বাইকে ধাক্কা মারে। তিন জনেই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। তাঁদের বাইকটি গাড়ির সঙ্গে লেগে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত হেঁচড়ে গিয়েছিল। তার পরে চালক গাড়ি থামান।
গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সুহেল সজীব নামের এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি মত্ত অবস্থায় রাতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে ওঠার আগে একাধিক পানশালায় গিয়ে তিনি মদ খেয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু কেরলমে মদ খাওয়ার আইনি বয়সসীমা ২৩ বছর। বেআইনি ভাবে কোন কোন পানশালা তাঁকে মদ দিয়েছে এবং কেন দিয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
অভিযোগ, পুলিশের সামনেও দুর্ঘটনার জন্য কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি অভিযুক্ত। বরং পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন নিজের পক্ষে। বলেছেন, ‘‘রাস্তা কেন বানানো হয়েছে? গাড়ি চালানোর জন্যই তো?’’ তিন জনের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা ব্যাপারটা বুঝে নেবেন।’’ এই ঘটনার একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা গিয়েছে তরুণ চালককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কিছু মানুষ। সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। কেরলমের আবগারি মন্ত্রী এম লিজু সমস্ত পানশালায় নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। কোথায় কোথাও বেআইনি ভাবে কমবয়সিদের মদ বিক্রি করা হচ্ছে, দেখতে বলেছেন আধিকারিকদের। ওই সমস্ত পানশালার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
