এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য বারবার পরীক্ষা নেওয়া বা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার। যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামাণিক ও শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসিতে আমরা যেটা করব, সেটা হচ্ছে, সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে যারা ফেল (অকৃতকার্য) করবে, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে আমরা পরীক্ষা নিয়ে নেব। আমরা ফেলের লিগ্যাসি বছরের পর বছর নিয়ে যাব না।’
পুনরায় নেওয়া পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে, ওই পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ধারার শিক্ষায় থাকবে কি না। পুনরায় পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাদের কারিগরি শিক্ষায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
এদিকে গত সোমবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে মতামত দিয়ে বলা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে এর মধ্যে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের পরীক্ষা নিতে পারবে। আর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ বছর তা সম্ভব নয়। পরবর্তী বছর থেকে তা সম্ভব বলে মত দিয়েছে বোর্ডগুলো।
অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খান একাডেমি আয়োজিত ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।