নিজস্ব প্রতিবেদক · ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন
সুরমা নদীর তীরে তখন বিদায়ের আয়োজন। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে একে একে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হলো দুর্গাপ্রতিমা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার শেষ হলো সিলেটের শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের সমাপ্তিতে ভক্তদের মধ্যে ছিল বিদায়ের বিষাদ, আবার আগামী বছর দেবীর আগমনের প্রত্যাশাও।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল তিনটা থেকে নগরের চাঁদনীঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে আসেন ভক্তরা। পরে নির্ধারিত স্থানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
বিজয়া দশমীর সকালে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর নিবেদন করেন ভক্তরা। নারীরা অংশ নেন সিঁদুর খেলায়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে চাঁদনীঘাটের দিকে যাত্রা করেন ভক্তরা। বিসর্জনস্থলে ঢাকের শব্দ ও উলুধ্বনির সঙ্গে বিদায়ের আবহ তৈরি হয়।
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে চাঁদনীঘাট এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য তৈরি করা হয় নির্ধারিত মঞ্চ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ। পুলিশের কয়েকটি বিশেষায়িত ইউনিটও সেখানে মোতায়েন ছিল।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে নগর এলাকায় ১৬২টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপ ছিল।
নগরের ১৬২টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪৬টি সর্বজনীন ও ১৬টি পারিবারিক। জেলা পর্যায়ে ৪৪৮টি সর্বজনীন এবং ২৬টি পারিবারিক মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি সুব্রত দেব বলেন, সিলেটে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। পূজার আয়োজন সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা কমিটির সদস্য এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছিল। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই চেতনায় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
