কী করলে বাংলাদেশ তিন জাতি আসরে ফাইনাল খেলতে পারবে? কোন হিসাব বা সমীকরণে আরব আমিরাতে হতে থাকা ত্রিদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে যেতে পারবে টাইগাররা? কাল (সোমবার) রাত থেকে ঘুরেফিরে এই একটি নিউজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর অনলাইন মিডিয়ায় চোখে পড়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বেশিরভাগ সময় টাইগারদের পারফরম্যান্স ভালো থাকে না। অর্জন ও কৃতিত্বও বেশ কম। কিন্তু তারপরও ক্রিকেটারদের নিয়ে ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় কোনোই কমতি নেই।
বিজ্ঞাপন
তাই আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত তিন জাতি ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় পরাজয়ের পরও বাংলাদেশ কীভাবে ফাইনালে উঠতে পারে, সে কথাই জানতে রাজ্যের আগ্রহ সমর্থকদের। আর সে আগ্রহ মেটাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত তোড়জোড়।
সব মিডিয়ায় একই প্রতিবেদন-কী করলে বাংলাদেশ ফাইনালে যেতে পারবে? অনেক মিডিয়া হাউজই নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ঘুরেফিরে কিছু পরিসংখ্যানও উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু সব কথার বড় কথা হলো, যত হিসাব-নিকাশই থাকুক না কেন, যত রকম সমীকরণের কথাই বলা হোক না কেন; আসল কথা হলো, আগামীকাল ২১ অক্টোবর রবিন লিগের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে জিততেই হবে।
জয় ছাড়া কোনো পথ নেই। বুধবার আফগানদের কাছে তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানরা হেরে গেলে আর কোনো কথাই থাকবে না। সোজা বিদায়। তখন আর অন্য কোনো হিসাব-নিকাশ দরকার পড়বে না।আফগানিস্তান দুই জয় আর জিম্বাবুয়ে এক জয় নিয়ে ফাইনাল খেলবে। বাংলাদেশ খালি হাতে সোজা দেশে ফিরে আসবে।

গতকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার হিসাবটা জটিল হয়ে গেছে। যেহেতু বাংলাদেশও জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে বসে আছে, তাই গতকাল জিম্বাবুয়ে জিতলে ফাইনালে চলে যেতো। তখন বাংলাদেশ আর আফগানিস্তানের আগামীকালের লড়াইটি অঘোষিত সেমিফাইনালে রূপান্তরিত হতো।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু আফগানরা বড় জয় পাওয়ায় টাইগারদের হিসাব আরও জটিল হয়ে গেছে। এখন শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে শুধু জিতলেই চলবে না। একটা হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণও মেলাতে হবে। খালি চোখে আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথমে ব্যাট করলে বাংলাদেশকে অন্তত ৪১ রানে জিততে হবে। আর পরে ব্যাটিং করলে আফগানরা যদি ৩০১ রানের টার্গেট দেয়, তাহলে সেটা ৪২.২ ওভারের মধ্যে অতিক্রম করতে হবে। এর চেয়ে কম করলে আনুপাতিক হারে হিসাব মেলাতে হবে।
মোদ্দা কথা, তাওহীদ হৃদয়ের দলের সামনে এখন শুধু জয়ের টার্গেটই নেই, সঙ্গে বেশ কিছু জটিল ও কঠিন সমীকরণ মেলানোর তাড়াও আছে।
বিজ্ঞাপন
এখন খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সামনেই দাঁড়াতে পারেনি। ২৭১ রানের পিছু ধেয়ে ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে ৯৯ রানে হেরেছে। সেই দল কি আফগানিস্তানের সঙ্গে নানা হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ মিলিয়ে জিততে পারবে?
আফগানরা তো জিম্বাবুয়ানদের উড়িয়ে দিয়েছে। দুই টপ অর্ডার সেদিকুল্লাহ অটল (১১০ বলে ১০২) আর ইব্রাহিম জাদরানের (৯৬ বলে ৯০) দুর্দান্ত উইলোবাজি আর বিশ্বসেরা লেগস্পিনার রশিদ খানের জাদুকরি স্পিন ঘূর্ণির মুখে জিম্বাবুয়ানরা দাঁড়াতেই পারেনি। হালে পানি পায়নি।
বাংলাদেশকে হারানো জিম্বাবুয়ে আফগানিস্তানের কাছে পাত্তাই পায়নি। সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাহলে কেমন করবে বাংলাদেশ? কুলিয়ে উঠতে পারবে তো? শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শুধু চলতি টুর্নামেন্টের তথ্য-উপাত্তের কথা বলা কেন, ইতিহাস-পরিসংখ্যানও জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে আরব আমিরাতের মাটিতে টাইগাররা আফগানদের কাছে হালে পানি পায়নি। শেষ তিন ম্যাচে টানা হেরেছে। এবং এর সবকটিই গত এক বছরের মধ্যে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে সর্বশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টাইগাররা যথাক্রমে ৫ উইকেটে, ৮১ রানে ও ২০০ রানে পরাজিত হয়েছে। তার আগের বছর মানে ২০২৪ সালের নভেম্বরে শারজায় তিন ম্যাচের সিরিজেও আফগানিস্তানের সঙ্গে পারেনি বাংলাদেশ। হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।
কাজেই আগামীকাল ২১ অক্টোবর অনেক হিসাব-নিকাশের লড়াইয়ে জয়টা মোটেই সহজ হবে না টাইগারদের। বরং নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই পরিগণিত হবে।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ ছয় ম্যাচে আফগানিস্তানকে একবারের বেশি হারানো সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়েই আফগানরা অনেক সাজানো-গোছানো দল। মাঠে তাদের অ্যাপ্রোচ, জয়ের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা সবার মন জয় করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে আফগানরা প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ কঠিনই।
সেই দলকে হারাতে বাংলাদেশকে নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে সেরা ফর্মে দেখা যাচ্ছে না। জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও একটা ছন্নছাড়া দল মনে হয়েছে। সমান শক্তির বিপক্ষেও করণীয় কাজগুলো সঠিক সময়ে যথাযথভাবে করে দেখাতে হয়। যেটা জিম্বাবুয়ে দেখিয়েছে। ১২ রানে ২ উইকেট আর ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও ১৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ২৭০ পর্যন্ত যাওয়া এবং সেই স্কোরকে জয়সূচক পুঁজিতে পরিণত করার মতো মাপা বোলিং আর টাইট ফিল্ডিংটা ঠিক করে ম্যাচ জিতেছে জিম্বাবুয়ানরা।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ তার কিছুই দেখাতে পারেনি। ব্রেন্ডন টেলর আর ক্রেইগ আরভিনের মতো দেড়শো রানের বড় জুটি গড়া বহুদূরে, একটা ৫০ রানের পার্টনারশিপও হয়নি। শুরুতে উইকেটের মুখ দেখলেও বোলাররাও পরে আর ব্রেক থ্রু আনতে পারেননি। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন শাখায় অনুজ্জ্বল, দ্যুতিহীন আর খাপছাড়া পারফরম্যান্সে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে হৃদয়ের দল।
ঠিক সেই খাপছাড়া পারফরম্যান্স ও বড় পরাজয়ের ধাক্কা সামলে আফগানদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে কী করবে টাইগাররা? সেটাই দেখার।
এআরবি/এমএমআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
