ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ
বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকÑতিন দিক থেকেই অত্যন্ত গভীর। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের প্রধান উৎস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত শিল্প, পরিবহন, বাজারব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। কিন্তু কৃষির এত বড় অবদান থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা প্রায়ই উৎপাদন ব্যয়, বাজারদর, মধ্যস্বত্বভোগী, সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কৃষিভিত্তিক সমবায় ব্যবস্থা একটি কার্যকর অর্থনৈতিক কাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কৃষকের বিচ্ছিন্ন শক্তিকে সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করে উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যৌথ সক্ষমতা তৈরি করাই হতে পারে কৃষিভিত্তিক সমবায়ের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের দেশে সমবায় আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি। কিন্তু অশিক্ষা, অব্যবস্থা ও অসাধুতার দরুন সমবায় তেমন সফলতা লাভ করেনি। কৃষক সমাজে সমবায়ের চেতনা না থাকার কারণে যৌথ উদ্যোগে কৃষিকাজ করা অনেকটা কঠিন। কেউ কেউ সমবায়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণাও পোষণ করে থাকেন। দল বেঁধে কাজ করাকে অনেক সময় ভালো চোখে দেখা হয় না। বিরাজমান সামাজিক অবস্থা, আর্থিক অনটন, নিরক্ষরতা, হিংসা, অলসতা, অবহেলা, অনীহা, পারিবারিক বাধা প্রভৃতি কারণে সম্মিলিতভাবে কৃষিকাজ করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। শিক্ষার অভাবে কৃষকরা সমবায়ভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ গ্রহণ করতে সাহস পায় না। এজন্য কৃষকদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। ব্যাপক হারে গণসচেতনতা চালাতে হবে। কৃষিভিত্তিক বুনিয়াদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। সমবায়ের সুফল ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কৃষকদের বিশেষভাবে ধারণা দিতে হবে।
বাংলাদেশ সমবায়ের এক উর্বর ভ‚মি। বর্তমানে এ দেশে ২৯ প্রকারের সমবায় সমিতি রয়েছে। মোট সমিতির সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। এতে অংশগ্রহণকারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় সোয়া কোটি। তাদের একটি বড় অংশ কৃষি সমবায়ের সঙ্গে জড়িত। তারা কৃষিপণ্যের উৎপাদন করছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের নাগপাশ এড়িয়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করছে। সমবায়ের মাধ্যমে তারা উন্নত বীজ, সার, সেচ ও কৃষি যন্ত্রায়নের ব্যবস্থা করছে। সমবায়ী কৃষকরা মিলিত হয়ে মাঠের ফসল সংগ্রহ করছেন, মাড়াই, ঝাড়াই ও সংরক্ষণ করছেন। বন্যা, খরা ও তীব্র শৈত্য প্রবাহের সময় তারা একসঙ্গে লড়ছেন। একসঙ্গেই তারা মোকাবেলা করছেন সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈপরীত্যকে। বর্তমানে দেশের কৃষিব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ জীবন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পন্থা হচ্ছে সমবায়। কৃষিভিত্তিক সমবায় কৃষকদের জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একজন কৃষকের পক্ষে নতুন জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা কিংবা বাজারের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। সমবায় সংগঠিতভাবে কৃষিবিদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ, মাঠদিবস, প্রদর্শনী প্লট এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কর্মসূচি আয়োজন করা যেতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যনির্ভর পদ্ধতির ব্যবহার বাড়বে। কৃষিভিত্তিক সমবায়ের মাধ্যমে বাজারব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা সম্ভব। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সমবায় যদি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের পণ্য তালিকাভুক্ত করে, অনলাইন অর্ডার গ্রহণ করে এবং সংগঠিতভাবে সরবরাহ করতে পারে, তাহলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি শহুরে ভোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের কাছেও পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তিভিত্তিক বাজার তৈরি করা গেলে কৃষকের আয় ও বাজারের স্থিতিশীলতা উভয়ই বাড়তে পারে।
কৃষিকাজ বলতে বাংলাদেশে এবং অন্যান্য দেশে ফসল ফলানো, খাদ্যশস্য উৎপাদন, পশুপাখি পালন, মাংস, দুগ্ধ ও ডিম উৎপাদন, মৎস্য চাষ, কৃষি বনায়ন ইত্যাদি সমষ্টিকে বোঝায়। এই বিশাল কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগী ভ‚মিকা পালন করছে সমবায়। এগুলোর মধ্যে শস্য উৎপাদন ও বিপণন সমবায়, দুগ্ধ সমবায়, মৎস্য চাষি সমবায়, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সমবায়, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমবায়ের ক্ষেত্রে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, ভারত ও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এসব দেশে সমবায়ের বার্ষিক আয় পর্যাপ্ত। অংশীজনের সংখ্যাও অনেক বেশি। জাতীয় উৎপাদনে ও কর্ম সৃজনে দীর্ঘকাল ধরে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলছে কৃষি সমবায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষি ও কর্মসংস্থানকে একই সূত্রে গাঁথতে হবে। সর্বপ্রথম প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে হাতে-কলমে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। সেই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র ‘কৃষি মূল্য কমিশন’ গঠন করা এখন সময়ের দাবি। তাছাড়া সার ও ডিজেলে পর্যাপ্ত ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করে কর্মসংস্থানের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটাতে হবে। সর্বোপরি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারলে বেকারত্ব নিরসন ও একটি সমৃদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কৃষিভিত্তিক সমবায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভ‚মিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা কৃষিকাজ, পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য যথাযথভাবে স্বীকৃত হয় না। নারী-কেন্দ্রিক কৃষি সমবায় বা সমবায়ের মধ্যে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তারা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এর ফলে পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং নারীর আর্থিক স্বাধীনতা- দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক সমবায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও কার্যকর হতে পারে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষিকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একক কৃষকের পক্ষে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন। সমবায়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল জাত, উন্নত সেচব্যবস্থা, ফসল বৈচিত্র্যকরণ, পানি সংরক্ষণ, কৃষি বীমা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম যৌথভাবে গ্রহণ করা সম্ভব। এতে কৃষকের ঝুঁকি ভাগাভাগি হবে এবং কৃষি উৎপাদনের স্থিতিস্থাপকতা বাড়তে পারে।
আমাদের দেশে সমবায়ের অনেক সফলতার উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও সমবায় আন্দোলনকে তেমন আমলে নিতে আগ্রহী নন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন প্রচলিত সমবায় গঠন, তার নিবন্ধন, পরিচালনা ইত্যাদি সবই সমবায় কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে এটি আমলানির্ভর আইন হয়েছে। ফলে সমবায় আন্দোলন কখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠতে পারছে না। অন্যদিকে সমবায়গুলোর ভেতরে যে অনিয়ম-দুর্নীতি অতীতের দুর্নীতিবাজদের কুকর্মের সাক্ষী হয়ে বিরাজ করছে তার মূলোৎপাটনে প্রচলিত আইন তেমন কোনো সহায়ক ভূমিকা তো রাখছেই না, বরং তা যাতে আরো ফুলেফেঁপে ক্রমশ স্ফীত হতে পারে তারই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পদে পদে। নিবন্ধন থেকে পরিচালক, অডিট, নিয়ন্ত্রণ সবই কর্মকর্তাদের পছন্দমাফিক করতে হবে। সমবায়ীদের ইচ্ছের কোনো মূল্য নেই। কৃষিভিত্তিক সমবায়কে জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মধ্যে সংযোগ যত শক্তিশালী হবে, সমবায়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তত বাড়বে। কৃষকের উৎপাদিত কাঁচামাল যদি স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত হয়, কৃষিপণ্য যদি প্রক্রিয়াজাত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে যায় এবং সেই মূল্যশৃঙ্খলের একটি অংশ যদি কৃষকের কাছে ফিরে আসে, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্পদ সৃষ্টির নতুন পথ খুলবে। এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কৃষিভিত্তিক সমবায়কে শুধু কৃষকদের একটি সংগঠন হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এখানে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার গবেষণা, হিসাব, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সমন্বয় প্রয়োজন। সমবায় সফল হবে তখনই, যখন সদস্যরা বুঝবেন যে এটি কোনো অনুদাননির্ভর প্রকল্প নয়, বরং তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন ও পরিচালিত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। সদস্যের অংশগ্রহণ, আস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই হবে এর মূল পুঁজি।
কৃষিভিত্তিক সমবায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রাখে। এটি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে, বাজারে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন করতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে, তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলাতেও এর অবদান থাকতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাজারভিত্তিক পরিকল্পনা। কৃষককে শুধু উৎপাদক হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি কার্যকর পথ হতে পারে কৃষিভিত্তিক সমবায়। তাই সঠিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক সমবায় গড়ে তুলতে পারলে এটি শুধু কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যম হবে না; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক, উৎপাদনশীল ও বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়ন হলেই কৃষি সমবায় শক্তিশালী হবে। আদর্শ কৃষি সমবায় স্বনির্ভর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। অধিকন্ত আদর্শ কৃষি সমবায় দারিদ্র দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সুতরাং এ কথা বলা যায় যে, কৃষিভিত্তিক সমবায় অর্থনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং রোটারি লার্নিং ফেসিলিটেটর, রোটারি ক্লাব, ঢাকা এলিট।
The post আদর্শ কৃষি সমবায় স্বনির্ভর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে appeared first on দৈনিক আমার কাগজ.
