রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত এখন অনেকটাই হকারমুক্ত। আগে যেখানে পোশাক, জুতা, বইসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসতেন হকাররা, সেখানে এখন আর সেই চিত্র নেই। ফাঁকা ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে চলাচল করছেন পথচারীরা। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান মালিকদের মধ্যে।
তবে কিছু জায়গায় খাবার, সিগারেট, ঘড়ি, মোবাইল সিমসহ সহজে সরানো যায় এমন পণ্য নিয়ে বসছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। দেখা যায় ছিন্নমূল মানুষের বিশ্রাম নেওয়ার চিত্রও।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে চারটি প্রধান সড়ক বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ভবনসংলগ্ন সড়ক ধরে মিরপুর-১ ও মিরপুর-২ নম্বরের দিকে যাওয়া যায়। এই সড়কে ফায়ার সার্ভিস ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। একসময় এখানকার ফুটপাতে জুতা, জামা ও বই নিয়ে বসতেন হকাররা। তবে মঙ্গলবার সকালে তাদের দেখা যায়নি। মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন ফুটপাতও প্রায় হকারমুক্ত।
বিজ্ঞাপন

মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ফায়ার সার্ভিসের দিকে যাওয়ার সড়কের ফুটপাতে অবশ্য কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাকে দেখা গেছে। কেউ বিক্রি করছেন সিগারেট, কেউ মোবাইল ফোনের স্ক্রিন প্রটেক্টর, আবার কেউ ঝালমুড়ি। এসব ফুটপাতসংলগ্ন অলিগলিতে হকারদের পণ্য বহনের গাড়ি ও কাঠের কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশে মেডিনোভা হাসপাতাল থেকে মিরপুর-২ নম্বরের মিরপুর শপিং সেন্টার পর্যন্ত ফুটপাতেও জামা-কাপড় ও জুতার পসরা নিয়ে কাউকে বসতে দেখা যায়নি। তবে ঝালমুড়ি, পেঁপেসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করছেন কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ হকার। কিছু দোকানের সামনেও ফুলের টব ও অস্থায়ী কাঠামো রাখা হয়েছে, যেন ফুটপাতে হকাররা বসতে না পারেন।
ওই সড়কের জুতার দোকান খড়মের মালিক মুরাদ দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের জুতা বিক্রি করছেন। দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ফুটপাত ফাঁকা হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ঈদের সময় এর সুফল পাওয়া যাবে। আগে ফুটপাতে ভিড় থাকায় ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে চাইতেন না। এখন পরিবেশ সুন্দর হয়েছে, মানুষ নিরিবিলিতে হাঁটাচলা করতে পারছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে ওই সড়কের ফুটপাতের ওপর মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, এ সড়কে একাধিক ফ্যাশন হাউজ রয়েছে। ক্রেতারা কেনাকাটা করতে এসে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পার্ক করেন।
একটি ফ্যাশন হাউজের সামনে কথা হয় মিজানুর রহমানের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত বলে যে কিছু আছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। আগে মানুষের গায়ে ধাক্কা লাগত। এখন ভালোভাবে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
পুরোনো ওভারব্রিজ ও কোচিং সেন্টারের সামনে আগে ফল নিয়ে বসতেন হকাররা। এখন সেখানে তাদের দেখা মেলেনি। শাহ আলী মার্কেট থেকে মিনার্ভা সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত ফুটপাতেও চশমা, ঘড়ি ও বেল্ট বিক্রেতাদের দেখা যায়নি। শাহ আলী মার্কেটের দ্বিতীয় গেট, রাড্ডা হাসপাতালের বিপরীত পাশের সড়ক এবং মিরপুর-২ নম্বর থেকে আইডিয়াল স্কুল ও সি ব্লকের হোপ স্কুলমুখী সড়কও হকারমুক্ত।
হোপ মার্কেট এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল। আইডিয়াল স্কুলসংলগ্ন একটি বাসার কেয়ারটেকার দেলোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, আগে বাসার সামনে হকাররা বসতেন। তাদের সরানো কঠিন ছিল। এ জন্য লাইনম্যানদের ধরতে হতো। এখন হকার না থাকায় চারপাশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে। ঈদের সময়ও যেন তারা আর বসতে না পারেন, সে ব্যবস্থা থাকা দরকার।

শিক্ষার্থী মিশুক বলেন, এখন রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করা যায়। সড়কটি যে এত বড় এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত রয়েছে, আগে তা বোঝার উপায় ছিল না।
বিজ্ঞাপন
এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, সড়ক ও ফুটপাতের ওপর আগের মতো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। মাথার ওপর ছাউনির মতো করে কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও চোখে পড়েনি। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছেন পথচারীরা। সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।
ফুটপাত ও সড়ক এভাবেই দখলমুক্ত রাখার প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সিরাজুল নামের এক ব্যক্তি জাগো নিউজকে বলেন, সিটি করপোরেশনের এদিকে নজর রাখা উচিত। ফুটপাত ও সড়ক যেন আবার অবৈধ দখলদারদের কবলে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এসব ফুটপাত হকারমুক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরপর থেকে সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বিভিন্ন সময়ে আকস্মিকভাবে মিরপুর-১০ নম্বরের বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করছেন। হকারমুক্ত পরিবেশ বজায় রয়েছে কি না, তা দেখতেই এসব পরিদর্শন করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ১৩৮টি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে এক হাজার ২০০টি অস্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে এবং ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার ফুটপাত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় এক হাজার ৮৩টি মামলা করা হয়েছে।
এসএম/কেএসআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
