পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে আগুনে সাত থেকে আটটি গুদাম পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়তলায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। গুদামগুলোতে ছাতা, প্রসাধনসামগ্রী, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল।
মঙ্গলবার সকালে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানানো হয়।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামগুলোয় মালামাল ঠাসা ছিল। আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানোর সময় মাঝেমধ্যে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পানি দিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভানোর চেষ্টা চলছে। এখনো ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, গুদামগুলোর দরজায় তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো দোকানে তিন থেকে চারটি তালার পাশাপাশি কলাপসিবল গেট ছিল। তালা কেটে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভাতে হয়েছে। এ ছাড়া সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়েছে। ভবন থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। পানির স্বল্পতাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। রিজার্ভের পানি বারবার শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
নির্ধারণ করা কঠিন। গুদামের মালিকেরা তাঁদের ক্ষতির হিসাব জানাতে পারবেন। এ জন্যও সময় লাগবে।
আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি গঠন করবে। ভবনটিতে বিদ্যুতের লাইন ছিল। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে, তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ভবনটিতে কেউ বসবাস করতেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান কাজী নজমুজ্জামান। আগুন নেভানোর কাজে মার্কেটের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেছেন। আগুনের তাপ ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
