স্পোর্টস ডেস্ক।।
রেফারিদের আচরণে অসন্তুষ্ট রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা পুরো ম্যাচে তাকে ফাউল করলেও শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখতে হয় তাকেই।
শুধু নিজের জন্য নয়, বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেসের মতো সৃজনশীল ফুটবলারদের সুরক্ষারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলে নাটকীয় জয়ের পর রেফারিদের নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই স্প্যানিশ লিগে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টানা এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় লাল কার্ড দেখেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন, এমন আর কোনো খেলোয়াড়ের কথা আমার মনে পড়ে না। আমার সামনে থাকা খেলোয়াড়টিকে সরানোর চেষ্টা করেছিলাম। এ সময় তার চুলে আমার হাত আটকে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যস, এ কারণেই লাল কার্ড। বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো অপমানজনক কথা আমি রেফারিকে বলিনি। কিন্তু ভিনি হলেই সবকিছু খুব সহজ হয়ে যায়।’
ভিনিসিয়ুসের মতে, প্রতিপক্ষ দল ও সংবাদমাধ্যম তার শাস্তিকে সমর্থন করবে, সেটি তিনি বোঝেন। তবে নিজের উন্নতি ও সামর্থ্যের ওপর আস্থা রয়েছে তার।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বলেন, ‘প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা আমাকে দুয়ো দেবে, এটা স্বাভাবিক। কারণ, তাদের দলের বিপক্ষে গোল করাই আমার কাজ। কিন্তু রেফারিদের বুঝতে পারি না।’
রেফারিদের সিদ্ধান্তের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি পরিসংখ্যান দেখেছি। আমাকে ৫০০ বার ফাউল করা হয়েছে, অথচ এর ফলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা মাত্র পাঁচটি লাল কার্ড দেখেছে। শেষ পর্যন্ত হলুদ কার্ডটা সব সময় ভিনির মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরই দেখতে হয়। যারা খেলার ধরনে ভিন্নতা আনে, তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। যেমন বার্সেলোনার লামিনে কিংবা আতলেতিকোর হুলিয়ান। ডিফেন্ডাররা পুরো ম্যাচ আমাকে ফাউল করতে পারে, অথচ শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখি আমি।’
ভিনিসিয়ুসের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিয়ো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এমন সিদ্ধান্ত জানানোকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মরিনিয়ো বলেন, ‘আপনাদের কি মনে হয়, স্পেনের একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতির সময়, যা স্প্যানিশ ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, খেলা শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে কোনো খেলোয়াড় তার চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর পাবে, এটাই স্বাভাবিক?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর জন্য বাসে ছিলাম, তখনই খবরটি পাই। তারা কোনো লজ্জা ছাড়াই এসব কাজ শুরু করেছে।’
চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আগস্টের পর আর গোল পাননি ভিনিসিয়ুস। রোমার বিপক্ষে ম্যাচেও ৫৯ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তখন ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় দলটি।
নিজের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সেরা ফর্মে ফেরার জন্য কাজ করছি। আমি জানি, এখন নিজের সেরা অবস্থায় নেই। তবে এর চেয়েও খারাপ সময় পার করেছি। মানুষ যখন আমাকে নিয়ে সন্দেহ করেছে, তখনও আমি সব সময় এই ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছি। এ কারণেই ছয় বছরের চুক্তি নবায়ন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভালো সময় আবার ফিরবে, গোলও আসবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমি দলকে সাহায্য করতে চাই।’
২৬ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস চলতি মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মাত্র দুটি গোল করেছেন। রিয়ালের হয়ে লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে একটি এবং সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে অন্যটি করেন তিনি।
রোমার বিপক্ষে বদলি হওয়ার সময় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও মরিনিয়োর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বলে জানিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
তিনি বলেন, ‘বদলি হলে আমার খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। কারণ, আমি প্রতিটি ম্যাচই খেলতে চাই। নিজের বর্তমান ফর্ম ও খেলার ধরন সম্পর্কে আমি সচেতন। দলকে সাহায্য করতে চাই। কখনো কখনো অন্য খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে খেলার গতিপথ বদলানোর জন্য আপনাকে উঠে যেতে হয়।’
‘মরিনিয়োর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। তিনি সব সময় আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। আজ বদলি হওয়ার পর কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম, এটা স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। দল ভালো খেলেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’, যোগ করেন তিনি।
ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৮৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন এন্দ্রিক। এরপর ৯০ মিনিটে আন্তোনিও রুডিগারের গোলে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল।
ম্যাচটিকে মৌসুমের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভিনিসিয়ুস। তার ভাষায়, ‘এটাই রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের গতিপথ বদলাতে এমন একটি ম্যাচ আমাদের প্রয়োজন ছিল। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তরুণ খেলোয়াড়েরা দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। তারা দারুণ করেছে।’
এন্দ্রিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এন্দ্রিক অবিশ্বাস্য খেলেছে। সে গোল করেছে এবং দলকে অনেক সাহায্য করেছে। এ কারণেই ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছে।’
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। এরপর বার্সেলোনার বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’ এবং রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ম্যাচও মিস করবেন তিনি।
