কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে ভবনের ভেতরের লোহা, আবার কোথাও কলাম থেকে খুলে পড়ছে ইট। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে চলছে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর চিত্র এটি। বিদ্যালয়টিতে জরাজীর্ণ ভবনের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই প্রাচীন বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ২০১ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ১০টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর ওপর একজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় বাকি সাতজন শিক্ষককেই ক্লাস সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। শ্রেণিকক্ষের সিলিং ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে পাঠদান চলছে।
ভবনের করুণ পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। উম্মে মাহমুদা নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রায় ১৩০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই জরাজীর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে প্রতিদিন আমরা আতঙ্কে থাকি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বলেন, ‘পুরনো ভবনটির পলেস্তারা অনবরত ঝরে পড়ায় স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ আর নেই। এর বাইরে পর্যাপ্ত ওয়াশ ব্লক না থাকায় শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনতিবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত সংস্কার জরুরি।’
স্থানীয় সমাজসেবক সাবের সুলতান কাজল ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. ওমর ফারুক জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করে দ্রুত নতুন ভবন বরাদ্দের চেষ্টা করছেন বলে নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুর নবী বলেন, ‘আমি সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
