আজকাল ওয়েবডেস্ক: সীমান্তের ওপারে সানিয়াজান নদী। এক দিকে কাঁটাতারের বেড়া, অন্য দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা। তারই মধ্যে নদী থেকে বালি ও পাথর তোলাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সীমান্ত।
শনিবার বিকেলে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগ ঘিরে বিএসএফের সঙ্গে একদল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, বেআইনি কাজ বন্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পাল্টা পদক্ষেপ করতে হয় বিএসএফকে। গ্রেনেড ছোঁড়ার পরেই এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের টহলদারির সময় বিষয়টি নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত সানিয়াজান নদী থেকে একদল বাংলাদেশি অবৈধ ভাবে বালি ও পাথর তুলছিল। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ডের খবর পেতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিএসএফের জওয়ানেরা।
অভিযুক্তদের কাজ বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। নির্দেশের পরেই বেশ কয়েক জন স্থানীয় বাংলাদেশি একত্রিত হয়ে জওয়ানদের দিকে এগিয়ে আসে।
তাদের হাতে লাঠি ও পাথর ছিল বলে দাবি। অভিযোগ, এর পরেই কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে পাল্টা পদক্ষেপ করে বিএসএফ। অভিযোগ, হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এই পদক্ষেপের পরেই অভিযুক্তরা পিছু হটে এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=0GDpsiHmMVIRWgro
তবে সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছে কি না, কিংবা কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর মেখলিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা, নদী থেকে বেআইনি ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন এবং সীমান্তরক্ষীদের উপর হামলার অভিযোগ এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সীমান্ত এলাকায় নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে বিএসএফ সূত্রে।
