সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী ‘দোলনচাঁপা’ আন্তনগর ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় রংপুরের বদরগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় রংপুর-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ স্টেশনের নিকটবর্তী ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করার মুহূর্তে এর চার নম্বর বগির চারটি চাকা হুট করে লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে আকস্মিকভাবেই এই আঞ্চলিক রুটটিতে রেল যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পার্বতীপুরগামী যাত্রী ওবায়দুল হক ও মাজেদ আলী জানান, আউলিয়াগঞ্জ স্টেশন পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির লক্ষণ দেখা দেয় এবং অস্বাভাবিক শব্দ হতে থাকে। পরবর্তীতে বদরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছানোর পর বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, স্টেশনের আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশের দাবি, রেললাইনের ওপর বাঁশ ও খড়ি ফেলে রাখার নাশকতামূলক বা অসাবধানতামূলক কোনো পরিস্থিতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। ক্ষুব্ধ কয়েকজন যাত্রী এই দুর্ঘটনার জন্য চালককে সরাসরি দায়ী করে চড়াও হন এবং ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম ও গার্ড বজলুল হককে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে চালক রফিকুল ইসলাম নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ট্রেন থেকে নেমে সরে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার ইমরুল কায়েস জানান, লাইনের ওপর বাঁশ ও খড়ি জাতীয় প্রতিবন্ধকতা থাকার ফলেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকাজ শুরু হলে এই রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
