ঘরোয়া ক্রিকেটে এবার নতুন নজির। রনজি ট্রফির ম্যাচ খেলাবেন বিদেশি আম্পায়ার। চলতি মরশুমে ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতায় দু’টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন অস্ট্রেলিয়ার বেন ট্রেলোর। কেন এমন সিদ্ধান্ত ভারতীয় বোর্ডের?
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার বিনিময় কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবেই এই উদ্যোগ। পালটা অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিং করতে যাবেন ভারতের পরাশর যোশি। ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দিল্লি-গুজরাট ম্যাচে ইতিমধ্যেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বেন। তাঁর পরের ম্যাচ মুম্বই বনাম হরিয়ানা। ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সেই খেলা।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসাবে যথেষ্ট অভিজ্ঞ বেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০টি, লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২০টি এবং বিগ ব্যাশ লিগে ৩৯টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন তিনি। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দায়িত্ব সামলেছেন। আম্পায়ারিং করেছেন দু’টি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চারটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। আম্পায়ারিংয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসের আম্পায়ার এডুকেশন অফিসার হিসাবেও কাজ করেন বেন। নতুন আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোর দায়িত্বও রয়েছে তাঁর কাঁধে।
অন্যদিকে, পরাশরের অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু হবে ১১ নভেম্বর। গাব্বায় কুইন্সল্যান্ড ও তাসমানিয়ার শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন তিনি। এর পরে ১৬ নভেম্বর ওয়ানডে কাপে একটি ম্যাচ পরিচালনা করবেন ভারতীয় আম্পায়ার। তাঁর সফরের শেষ দিকে ২২ থেকে ২৫ নভেম্বর সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচেও দায়িত্ব সামলাবেন পরাশর।
২০১৫ সাল থেকে বিসিসিআইয়ের আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য পরাশর। ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আম্পায়ারিং করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এখনও পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ন’টি, লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২৪টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩০টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। দুই দেশের আম্পায়ার বিনিময় কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, ম্যাচ অফিসিয়ালদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং তাঁদের দক্ষতা আরও উন্নত করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দায়িত্ব পালনের এই সুযোগ দুই দেশের আম্পায়ারদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
