Published on
:
2 min read
পড়াশোনার চাপ, মানসিক অবসাদ-সহ নানা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার খবর সামনে আসছে। যত দিন যাচ্ছে সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হস্টেলে ৩৮৮টি ‘অ্যান্টি সুইসাইড সিলিং ফ্যান’ লাগিয়েছেন তাঁরা। পড়ুয়াদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতেই এই ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মেয়েদের হস্টেলে ১৭০টি এবং ছেলেদের হস্টেলে ২১৮টি বিশেষ ফ্যান লাগানো হয়েছে। এগুলি দেখতে সাধারণ সিলিং ফ্যানের মতোই। কিন্তু গোড়ায় স্প্রিং লাগানো রয়েছে। ১০ কেজির বেশি ওজন চাপালেই স্প্রিং খুলে যাবে। ফলে ফ্যান নেমে আসবে নীচের দিকে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বিদ্যুৎ সংযোগও।
২৫০০ টাকা খরচ করে এক একটি অ্যান্টি সুইসাইডাল সিলিং ফ্যান কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিশোরসিংহ চাভদা। তাঁর দাবি, বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও দিন পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি। তবে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে এমন খবর সামনে আসায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
যে ভাবে হোক পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা রুখতেই হবে বলে জানিয়েছেন চাভদা। তিনি বলেন, ‘ফ্যানে একটু বেশি ওজন পড়লেই স্পিংটা খুলে নীচের দিকে নেমে আসবে। ফলে একটা মূল্যবান প্রাণ বেঁচে যাবে।’ পড়াশোনার চাপ বা রেজ়াল্ট খারাপ হওয়ার কারণে পড়ুয়াদের চরম সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। চাভদার কথায়, ‘পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক বার সুযোগ দেয়। প্রয়োজনে ছ’বার, এমনকী ১২ বারেরও বেশি পরীক্ষা দিতে পারবেন ছাত্রছাত্রীরা।’
🚨 A university in Gujarat is installing spring-loaded "anti-suicide" fans across its hostels. https://t.co/tXCm8voFHF
— Indian Tech & Infra (@IndianTechGuide) October 23, 2026
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, হস্টেলে ছাত্রছাত্রীরা একা থাকেন। ফলে অনেক সময়ে মানসিক চাপে ভোগেন তাঁরা। সেখান থেকে চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। সেই পরিস্থিতিতে এমন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করেন তাঁরা। তবে বিশেষ ফ্যান বসালেই আত্মহত্যার সমস্ত ঝুঁকি দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পড়ুয়াদের মানসিক চাপ সামলাতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, চাপ কমানোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনের দ্রুত সাহায্য পাঠানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
