১৮ দফা বাস্তবায়নে গণঅভ্যুত্থানের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ২২/১ তোপখানা রোডে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মুঈনুদ্দীন আহমদ, মিতু সরকার, কাজী ইকবাল, আব্দুস সামাদ, মাহফুজুল হক, রফিক আহমেদ, কাইয়ুম হোসেন, উজ্জ্বল বালো, মনোয়ার হোসেন, হোসেইন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান খান, দীপা মল্লিক ও অনন্ত সরকারসহ অনেকে।
কর্মীসভায় আগামী ৬ই নভেম্বর ঢাকায় ২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল তিনটায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক আলোচনা সভা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কর্মী সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতের সাম্প্রতিক গণআন্দোলন, ইউরোপ জুড়ে ছাত্র তরুণ শ্রমজীবী জনগণের আন্দোলন সম্পর্কে উল্লেখ করে ফয়জুল হাকিম বলেন, বিশ্ব জুড়ে পুজিবাদী শাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদের এক আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধছে। এই আন্দোলন মূলত বিশ্ব জুড়ে পুজিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদের লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রেরই পদধ্বনি।
ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার উচ্ছেদ করলেও দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত্তি লুণ্ঠনের অর্থনীতি, দুর্নীতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা অক্ষত রয়ে গেছে।দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার গদীনসীন হয়েছে কিন্তু এই সরকার শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সেবার পরিবর্তে অতীতের মতো লুটেরাদের সেবায়,সাম্রাজ্যবাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল-চিনিকলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ না করে, পুজি বিনিয়োগ না করে, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর না করে লুটেরাদের কাছে লীজ দিয়ে লুটপাটের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দেশের শিল্প কৃষি বিকাশের পথ রুদ্ধ হবে জেনেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক অধীনতামূলক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে। জনগণকে অগোচরে রেখে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দুবাই ভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর কাছে ইজারা দিয়েছে । এসব সরকারি দল ও বিরোধী দলের এক অলিখিত ঐক্যমতে হয়েছে।
সভায় সারা দেশে শ্রমিক কৃষক মেহনতি জনগণের শ্রেণী সংগঠন গড়ে তুলে ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের ধারাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আরও পড়ুন
দেশের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে হবে: জি এম কাদের
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: সংগৃহীত
-->দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জি এম কাদেরের ভাষ্যে, দেশ এখন ‘অত্যন্ত খারাপ সময়’ পার করছে। দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা’ বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন একসময় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসা জি এম কাদের।
জাপার অনুষ্ঠানে জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত এ দেশে কোন লোক বিনিয়োগ করবে না। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক কেউ টাকা দেবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা না আসে ততক্ষণ কেউ টাকা দেবে না। কাজেই দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এই মুহূর্তেই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিয়ে সবাইকে রাজনীতি করতে সুযোগ দিতে হবে।’
একসময় আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টি। পরপর তিন নির্বাচনে জোটসঙ্গী থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে; জাতীয় পার্টি বসে প্রধান বিরোধী দলের আসনে। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির সমালোচনা হয়েছে বিস্তর।
চব্বিশের আন্দোলনের পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জি এম কাদেরের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়া জি এম কাদের নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির যে লোক আওয়ামী লীগকে শত্রু দাবি করবে, বাজে কথা বলবে, তারা জাতীয় পার্টি থেকে খারিজ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে আমি তাদের সাথে কোনো রাজনীতি করব না।’
চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর কে বা কারা গুলি করেছে, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনুসন্ধান করতেও সরকারের প্রতি দাবি জানান জি এম কাদের।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
আরও পড়ুন
সহনশীলতা ছাড়া ভালো রাজনীতিক হওয়া যায় না: রিজভী
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
-->রাজনীতিতে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়, তাই যার মধ্যে সহনশীলতা বা ধৈর্য নেই, সে কখনোই ভালো রাজনীতিক হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাহিত্য পত্রিকা ‘সারেঙ’-এর ‘রেজাউদ্দিন স্টালিন সংখ্যা’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ওই সময়ে মামলা ও কারাবরণের আশঙ্কায় অনেক নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব তাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে ভয় পেতেন।’
তবে এমন নয় যে, তাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল। কিন্তু আমাদের উপস্থিতির কারণে অন্য অতিথিরা সমস্যায় পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে দূরে থাকতেন। তবে সেই দুঃসময়েও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন সাহসের সঙ্গে আমাদের পাশে ছিলেন।
সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকটগুলো সাহিত্যে তুলে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী আজ গভীর সংকটের মুখে। প্রতিটি দেশ এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। সমকালীন সংকট ও মানুষের জীবনকে কবিতায় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিরা তাদের সময়কে ধারণ করেন। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি কবিতায় উঠে না আসে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।’
এ প্রসঙ্গে তিনি কবি স্টালিনের ‘একদিন বৃক্ষের জন্য সবাইকে কাঁদতে হবে’ পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত করে বলেন, এটি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবেশ সংকটের এক অসাধারণ ও সত্য প্রতিচ্ছবি।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রসঙ্গে একজন অর্থনীতিবিদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকা রয়েছে। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকলে সেটি যে কতটা কর্মময় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে, নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিন তার প্রমাণ রেখে গেছেন।’
কবি স্টালিনকে একজন আধুনিক ও ব্যতিক্রমী স্রষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হলেও, তিনি নিজে কখনো দলটির সদস্য হননি। একইভাবে রেজাউদ্দিন স্টালিনও একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করলেও, তিনি কোনো দলীয় কাঠামোর মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, যা একজন বড় কবির নিদর্শন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক আবুল কাসেম হায়দার এবং কবি ও সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী।
‘সারেঙ’-এর সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি কামরুজ্জামান, কবি সৈকত হাবিব, কবি আসাদ কাজল এবং ছড়াকার ও এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী (বার্তা) হাসান শরীফ।
রিফাত/
আরও পড়ুন
বর্তমান সংসদ ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ নাহিদ ইসলামের
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->বিএনপির নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার টিকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ১৬ বছর পর নির্বাচন ও নতুন সংসদ গঠিত হলেও সেখানে বিরোধী দলের বক্তব্য এবং জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই সংসদ আর জনগণের সংসদ নেই।’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে উৎখাতের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমানকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, তারেক রহমান লন্ডনে নিজের বাসা এখনো বিক্রি বা ছেড়ে দেননি। তাদের এক পা দেশে, আরেক পা বিদেশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাস ও রুটের গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ চাঁদার ভাগ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অর্থ চলে যাচ্ছে।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চলতে পারে না। ১৬ বছর ধরে আন্দোলন করতে করতে মানুষ ক্লান্ত হলেও এখন আর বিকল্প নেই। তার অভিযোগ, তারেক রহমান গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। সেই আকাঙ্ক্ষা পুনরুদ্ধারে আবারও আন্দোলনে নামতে হবে।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে ‘নাটক ও প্রহসন’ চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংসদে পাস হওয়া কর্তৃত্ববাদী আইনগুলো পরিবর্তনের পাশাপাশি জুলাই গণহত্যায় যাত্রাবাড়ীতে শহিদ হওয়া ব্যক্তিদের এবং ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলোও অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।’
দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আলুচাষিরা লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। হিমাগারে আলু সংরক্ষণে ৮৬০ টাকা খরচ হলেও তা ৬২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরে ৫৭ জনকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তাদের সারের ব্যবসায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’
আগামী ৩০ অক্টোবর শাহবাগের গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি। শ্রমিক ও মজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এতে অংশ নিতে হবে। শাহবাগের গণবিক্ষোভ থেকে সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত যাওয়ার কথাও জানান তিনি।’
রাজু/রিফাত/
আরও পড়ুন
ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম শাহীন (৩০) কে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন নারী পুরুষকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে সোহাগী ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও সরিষা ইউনিয়নের গাংপাড়া গ্রামের মৃত সাহেদ আলীর ছেলে এমদাদুল হক (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুলিশ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলমকে শাহীনকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শনিবার বিকেলে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, শাহীনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আটক করার সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফয়সল আহমেদ/এসএন
