প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: X
Published on
:
2 min read
ফ্রান্সে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিবাসন নীতিকে দায়ী করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ করে অভিবাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। শনিবারের বিক্ষোভে একাধিক শহরে সংঘর্ষ, দোকান লুট ও সরকারি ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতের মানুষের অভিবাসন, যাদের হৃদয়ে ঘৃণা রয়েছে, এক সময়ের মহান দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন!’
এর আগে ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষও করেছিলেন ট্রাম্প। বিদ্রূপের সুরে তিনি বলেছিলেন, ‘চলো, ফ্রান্সে যাওয়া যাক! ফ্রান্স যেন বিপ্লবের জন্যই বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এটা অবিশ্বাস্য! চলো, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’
ভ্যান্সের নিশানায় পশ্চিমের অভিবাসন নীতি
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের অশান্তির জন্য পশ্চিমের অভিবাসন ও বহুসংস্কৃতির নীতিকে দায়ী করেছেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির নামে পশ্চিমের উদারপন্থীরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্স-সহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় সমাজের সংহতি এবং সংস্কৃতির সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলি উপেক্ষা করা হয়েছে।‘
ভ্যান্সের দাবি, এই নীতির পরিণতি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কেউ কর্ণপাত করেননি। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপত্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আমেরিকার রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স লেখেন, ‘আশা করি, আমেরিকার মানুষ বিষয়টি থেকে শিক্ষা নেবেন। নিজেদের দেশের জন্য কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা যে ভবিষ্যৎ চান, এটাই সেই ভবিষ্যৎ।’
ফ্রান্সে বিক্ষোভে ৫.৫ লক্ষ মানুষের জমায়েত
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠন CGT-র দাবি, প্রায় ৮ লক্ষের জমায়েত হয়েছে। পড়ুয়া, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই বিক্ষোভে যোগ দেয়। শিক্ষাক্ষেত্রে দুরবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে ক্ষোভ ছিল প্রতিবাদের মূল বিষয়।
অনেক জায়গায় মিছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হলেও পরে কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরনো টাউন হলের একাংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ১,৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শতাধিক পুলিশকর্মী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীও আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
Police arrested at least 1,800 people across France after violent groups clashed with officers and looted shops during nationwide demonstrations on Saturday that drew hundreds of thousands who denounced rising living costs and poor conditions in schools. pic.twitter.com/SYuLKH8363
— CBS News (@CBSNews) October 18, 2026
BREAKING: Mass protests over the soaring cost of living have ERUPTED into violent clashes across France, with fires, looting, hundreds arrested, and police deploying tear gas and water cannons as demonstrators demand lower prices, higher wages, and better public services.…
— Brian Allen (@allenanalysis) October 17, 2026
