মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে স্থান সংকুলানের সমস্যা। প্রতিটা ওয়ার্ডে মশারির ব্যবস্থা থাকলেও কোনো রোগীকে মশারির ভেতর থাকতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্য রোগীদের চাপ বাড়ায় শয্যা ব্যবস্থাপনায়ও তৈরি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে অন্য রোগীরা অবস্থান করায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ আর অনিয়মের কারণে দিন দিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
মাগুরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ সুমাইয়া আহম্মেদ জানান, আগের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ভর্তি হয় ৮৩ জন । গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর মাত্র দুদিনেই ভর্তি হয় ৩৪ জন। ক্রমেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তবে এ পর্যন্ত আমাদের এখানে কোন ডেঙ্গু রোগী মারা যায়নি। সুস্থ হয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছে।
নার্স হালিমা জানান, রোগীদের বারবার মশারির মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে তারপরও তারা মশারি ব্যবহার করে না। আমরা প্রতিটা রোগীকেই মশারি দিয়েছি। কিছু বলতে গেলে অনেক সময় রোগীর লোকজন আমাদেরই বকাবকি করে।
সদর উপজেলার জামরুলতলা থেকে চিকিৎসা নিতে আশা ভারতী বিশ্বাস বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের মশারির বাইরে থাকার কথা না। এমনকি বাইরে রোগীর চাপ বেশি থাকলে অন্য রোগীদেরও ডেঙ্গু বিভাগে রাখা হচ্ছে, এটা তো ঠিক না। আমরা সব সময় ভয়ে থাকি, একটা মশা যদি ডেঙ্গু রোগীদের কামড় দিয়ে বাইরের রোগীদেরও কামড় দেয় তাহলে তো অন্য রোগীদেরও ডেঙ্গু হওয়ার ভয় থেকে যায়।’
মাগুরা কাটাখালি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জান্নু শেখ জানান, আমি আজ চার দিন সাধারণ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসেছি এখন দেখছি ডেঙ্গু রোগীরা কোন নিয়ম মানছে না। তাই আমরাও আতঙ্কে আছি। অনেকে সেই ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান জানান, এ পর্যন্ত মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় চারশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। চিকিৎসা অবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো রোগী মারা যায়নি। ডেঙ্গু রোগীদের সবসময় মশারির মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে কোথাও কোনো পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সব নিয়ম মেনে চললে ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মশা নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
