চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। একেবারে সাজো সাজো রব। কনেও প্রস্তুত। বিয়ে করে স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন পাত্রী। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার অপেক্ষা! ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল নাটকীয় এক ঘটনা। বিয়ের আসরে সোজা পুলিশ নিয়ে হাজির এক ব্যক্তি। আনন্দের পরিবেশ মুহূর্তে বদলে গেল উত্তেজনায়।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকরনগর জেলার আকবরপুর কোতোয়ালি এলাকার শিব বাবা বলে একটি মহল্লায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হংসবর থানা এলাকার মুন্ডেরা গ্রামের বাসিন্দা গুরু প্রসাদের ছেলে সুরজের সঙ্গে রুচি নামে ওই পাত্রীর বিয়ে হয়েছিল আগেই। কোনও কারণে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে গোঁসাইগঞ্জ থানা এলাকার রাজপুর নিবাসী সুনীল কসৌধনের সঙ্গে রুচির দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি! সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শিব বাবা এলাকার একটি মণ্ডপে যখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, তখন প্রথম স্বামী সুরজ সেই খবর পেয়ে যান। এরপর তিনি দেরি না করে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বিয়ের আসরে হাজির হন। হঠাৎ পুলিশ ও প্রথম স্বামীকে দেখে অতিথি ও আয়োজকদের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখলে বিষয়টি গড়ায় থানা পর্যন্ত।
কনে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার বদলে সোজা হাজির হন আকবরপুর কোতোয়ালিতে। সেখানে থানার ভেতরই উভয় পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে সভ। যেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দুপক্ষই ওই সভায় নিজেদের কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা মান-অভিমান ও আলোচনার পর অবশেষে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছন সবাই। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, অতীতের সব অধ্যায় শেষ করে উভয় পক্ষই নিজেদের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারে। তারা দ্বিতীয় বিয়েও করতে পারবে। এই মর্মে দুই পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়। সমস্ত আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহিলা তার দ্বিতীয় স্বামী সুনীলের সঙ্গেই হাসিমুখে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
