
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৫
ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ৫ পর্যটকের মধ্যে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো চারজনে। এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ওই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে অদূরের সৈকতে ভেসে আসা মরদেহটি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হারুনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনেরা।
এর আগে বুধবার বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টের পাশের সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ (২১)। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মস জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের দুটি পৃথক দল হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজু খাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে বেড়াতে যায়। বিকেলের দিকে সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হলে ধীরে ধীরে বালুচরটি পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে পুরো চরটি পানির নিচে চলে গেলে দুই দলের সদস্যরা সাগরের পানিতে আটকা পড়েন বলে জানান তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হয় আরও একজনের মরদেহ।
জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. হেলালের ছেলে মোহাম্মদ আকাশ। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। এরপর পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং করা একটি রিসোর্টে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা রেজু খাল পেরিয়ে ওই বালুচরে যান। একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা আরেকটি পর্যটক দলও সেখানে অবস্থান করছিল। হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপদের মুখে পড়েন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, নিহত চারজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, নিখোঁজ একজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩২
ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টের পাশের সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
তিনি বলেন, দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুই পর্যটকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে

কক্সবাজার অফিস: | মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৫

ছবি সংগৃহীত।
নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলত ‘সারা এক্সপ্রেস’ প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি বাস (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতির মাধ্যমে একই নাম্বারপ্লেট লাগিয়ে কক্সবাজার-ঢাকা মহাসড়কে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক আরেকটি বাস। যা মোটরযান আধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
ইতোমধ্যে জালিয়াত বাসটি জেলগেট এলাকার একটি পার্কিং থেকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।
সারা এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কক্সবাজার জোন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের মালিকানাধীন বাসের নম্বর (ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতি করে প্রায় দেড় মাস যাবত মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস। বিষয়টি তারা অবগত হয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে ট্রাফিক পুলিশকে অভিযোগ করেন। এরপরও অবৈধ চলাচল বন্ধ না হওয়ায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে বাসটি সনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই গাড়ি ‘জব্দ’ অবস্থায় পুলিশ লাইনে রয়েছে।
জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা এক্সপ্রেসের একই নাম্বার ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাসে ব্যবহারের বিষয়টি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। যার কারণে মূল মালিককে ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়।
তিনি জানান, কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করতে ভয়ংকর একটি জালিয়াতচক্র মহাসড়কে নাম-বেনাবে বিভিন্ন বাস নামিয়ে দিয়েছে। এসবের কারণে কোম্পানির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
নকল নাম্বার প্লেটধারী বাসগুলো সনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন পরিবহন মালিকগণ।
নাম্বার প্লেট জালিয়াতির অভিযোগে গাড়ি জব্দের বিষয়ে অবগত বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শামীম জানান, অভিযুক্ত বাসটি জব্দমূলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগমূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন নাম্বার প্লেটের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করবে আদালত।
চকরিয়ায় পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া | সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০২

ছবি সংগৃহীত।
নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক বিড়াল মালিক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড কাজির পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সামশুল আলম বিড়ালটিকে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে সামশুল আলম তার পালিত ছাগল বাড়ির পেছনে খালি চারণভূমিতে বেধে দিতে গেলে বিড়ালটি পেছন পেছন চল যায়। এ সময় প্রতিবেশী ফরিজা বেগম পালিত কুকুর তার বিড়ালকে কামর দেয়ার চেষ্টা করলে সামশুল আলম কুকুর টিকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেন। এতে ফরিজা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি হাতে নিয়ে এসে বিড়ালটিকে এলোপাতাড়ি পেটায়। এতে বিড়ালটি গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়। ঘটনার সাথে সাথে বিড়াল টিকে উদ্ধার করে চকরিয়া পশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিড়ালটি কে মৃত ঘোষণা করেন।
বিড়ালের মালিক সামশুল আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,সে শুধু একটা বিড়াল ছিল না,ও আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিল। কোনো অপরাধ ছাড়াই ওকে এভাবে নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলা হলো। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো অবলা প্রাণীর ওপর এমন অত্যাচার করার সাহস না পায়।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,একটি বিড়ালকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের ‘প্রাণীকল্যাণ আইন,২০১৯’ অনুযায়ী অবলা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতা দণ্ডনীয় অপরাধ।
