কুড়িগ্রাম সদরে ‘মাদকাসক্ত’ এক ছেলের ছুরিকাঘাতে মা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা। বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সদরের পলাশবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নিহতের নাম মুনিরা বেগম (৫৮)। অভিযুক্ত ছেলের নাম মোস্তাকিন আলম শোভন (৩৫)। শোভনের ছুরিকাঘাতে তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ‘মাদকাসক্ত’ শোভনকে এর আগে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা-মা। কিন্তু তিনি বারবার সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তাকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তার বাবা-মা। কিন্তু শোভন তাতে রাজি ছিলেন না। বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা শোভনকে নিতে তাদের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শোভন ঘর থেকে বের হয়ে বাড়িতে থাকা ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে আঘাত করেন। এ সময় বাবা এগিয়ে এলে তাকে পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান শোভন।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন গুরুতর আহত এই দম্পতিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মা মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত বাবা সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।
শোভনের সহপাঠী লিমন হোসাইন বলেন, ‘কলেজে আমরা একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি। সে এমন ছিল না; মাদকের ভয়াল থাবা তাকে গ্রাস করেছে। আজকের এই ঘটনার জন্য সমাজ দায়ী। প্রতিটি সন্তান মাদকের হুমকির মুখে এবং মাদক প্রতিটি পরিবারের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অভিযুক্ত ছেলেকে ধরতে আমরা মাঠে রয়েছি। তাকে আটকের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চলছে।’
এমই
